একটি হাতির মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে আছে আরেকটি হাতি। আজ সকালে রাঙামাটির লংগদু উপজেলার ভাসন্যাদম ইউনিয়নের পকসাপাড়া এলাকায়
একটি হাতির মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে আছে আরেকটি হাতি। আজ সকালে রাঙামাটির লংগদু উপজেলার ভাসন্যাদম ইউনিয়নের পকসাপাড়া এলাকায়

রাঙামাটিতে বন্য হাতির মৃত্যু, শোকে কাতর সঙ্গী দাঁড়িয়ে আছে পাশে

রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় ৬০ বছর বয়সী একটি বন্য পুরুষ হাতির মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার ভোর সাড়ে পাঁচটায় উপজেলার ভাসন্যাদম ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পকসাপাড়া এলাকায় বন বিভাগের এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের সদস্যরা হাতিটির মরদেহ দেখতে পান।

বন বিভাগ জানায়, মৃত হাতিটি দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক সংক্রমণে ভুগছিল। বেশ কয়েক দফায় হাতিটিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যেই আজ ভোরে হাতিটির মৃত্যু হলো। তবে হাতিটির পাশে একটি স্ত্রী হাতি দাঁড়িয়ে থাকার কারণে মরদেহটি উদ্ধার করা যায়নি।

বন বিভাগ পাবলাখলী রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, হাতিটির মৃত্যুর বিষয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। মৃত হাতিটির পাশে একটি স্ত্রী হাতি দাঁড়িয়ে থাকার কারণে আশপাশে যাওয়া যাচ্ছে না।

চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রফিকুজ্জামান শাহ প্রথম আলোকে বলেন, অসুস্থ অবস্থায় হাতিটিকে সম্প্রতি দুই দফায় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১০ এপ্রিল থেকে একটি চিকিৎসকদলের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছিল।

হাতিটির চিকিৎসাসেবা দেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক বিবেক চন্দ্র সূত্রধর। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, হাতিটির বুকে দুটি ক্ষত এবং বাঁ পায়ের জয়েন্টে বেশি ক্ষত ছিল। শরীরের ক্ষত ভালো করা যেত, কিন্তু পায়ের ক্ষত বেশি হওয়ার কারণে ভালো হওয়ার সম্ভাবনা ছিল খুবই কম।

সিভাসুর মেডিসিন অনুষদের ডিন গৌতম কুমার দেবনাথ প্রথম আলোকে বলেন, বন্য হাতি সচরাচর ৬০-৭০ বছর পর্যন্ত বাঁচে। সর্বোচ্চ ৮০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে দেখা যায়।