রাঙামাটির বিলাইছড়ির পানছড়ি ত্রিপুরা পাড়ায় আগুনে পুড়ে যাওয়া বসতঘর। গতকাল বিকেলে তোলা
রাঙামাটির বিলাইছড়ির পানছড়ি ত্রিপুরা পাড়ায় আগুনে পুড়ে যাওয়া বসতঘর। গতকাল বিকেলে তোলা

জুমখেত থেকে ফিরে দেখেন আগুনে পুড়ে ছাই বসতঘর

আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে জুমখেতে কাজ করতে দুর্গম পাহাড়ে চলে গিয়েছিলেন তাঁরা। সারা দিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে বিকেলে ক্লান্ত–শ্রান্ত দেহে ঘরে ফিরে দেখেন ঘরের জায়গায় ঘর নেই। সেখানে ছাইয়ের গাদা। ঘরের সঙ্গে পুড়েছে জমিয়ে রাখা শস্য, চাল, খাবার, পোশাক থেকে শুরু করে সবকিছু।

রাঙামাটির দুর্গম বিলাইছড়ি উপজেলার ৩ নম্বর ফারুয়া ইউনিয়নের পানছড়ি ত্রিপুরাপাড়ায় আট পরিবারের বসবাস। এই আট পরিবারের মধ্যে পাঁচ পরিবারের ঘর পুড়ে গেছে আগুনে। গত মঙ্গলবার দুপুরের কোনো এক সময় আগুন লাগলেও গ্রামবাসী জুমখেতে থাকায় বিকেলে জানতে পারেন। আগুনে জুমে উৎপাদিত ধান, হলুদ, ঘরবাড়ির বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, কম্বল, কাপড় ও শিক্ষার্থীদের বই, খাতা ও স্কুলব্যাগ পুড়ে গেছে।

পানছড়ি গ্রামের বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সুবাস ত্রিপুরা প্রথম আলোকে বলেন, মঙ্গলবার আটটি পরিবারের সবাই বাড়ির বাইরে কাজে চলে যান। কাজ থেকে ফিরে এসে দেখেন তাঁদের সহায়–সম্বলটুকু আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুধু কাজে যাওয়ার সময় যে কাপড় পরে ছিলেন, সেটাই টিকে আছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো আর কোনো কিছু উদ্ধার করতে পারেনি।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, যেকোনো একটি ঘরে চুলার আগুন পুরোপুরি নেভেনি। সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।

গতকাল বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পানছড়িপাড়ার অগ্নিকাণ্ডের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, একজন মধ্যবয়সী নারী ও পুরুষ পুড়ে যাওয়া বাড়ির সামনে বসে আহাজারি করছেন। কেউ কেউ আগুনে পুড়ে যাওয়া ছাই ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী থেকে জুম থেকে সংগৃহীত পোড়া ধান, হলুদ কুড়িয়ে নিচ্ছেন।

জুমখেত থেকে ফিরে পোড়া বসতঘর দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই ত্রিপুরা নারী

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা হলেন যাদুমনি ত্রিপুরা, বামহা ত্রিপুরা, সুইচন্দ্র ত্রিপুরা, সুবল ত্রিপুরা ও মথি ত্রিপুরা। তাঁদের ঘরবাড়ি কাছাকাছি হওয়ার সহজে একটি বাড়ি থেকে আরেকটি বাড়িতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। অন্য তিনটি ঘর কিছুটা দূরে হওয়ায় আগুন থেকে রক্ষা পায়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসনাত জাহান খান প্রথম আলোকে বলেন, আগুনে পাঁচটি বসতঘর পুড়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে চুলার আগুন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে ইতিমধ্যে ত্রাণ সহযোগিতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম হওয়ার কিছুটা সময় লাগছে বলে জানান তিনি।