ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। শুক্রবার রাতে
ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। শুক্রবার রাতে

ফরিদপুরে জনসভা

আজন্ম যারা আমাকে কষ্ট দেয়, আমি তাদের মাফ করে দিই: শফিকুর রহমান

দুই দিন আগে গত বুধবার ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে জনসভা করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছিলেন, ‘জনগণ তাদের গুপ্ত নামে ডাকে, তারা রূপ পরিবর্তন করে।’ আজ শুক্রবার একই মাঠে আয়োজিত জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান সেই বক্তব্যের প্রসঙ্গে কথা বলেছেন।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে জনসভায় যোগ দিয়ে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিএনপির প্রধান তিনি কিছু কথা এখানে বলে গিয়েছেন। যাঁরাই আমার চরিত্রের ওপর আঘাত এনেছেন, আল্লাহ-তাআলা তাঁদের ক্ষমা করে দিন। আজন্ম আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই। আর আজন্ম যারা আমাকে কষ্ট দেয়, আমি তাদের মাফ করে দিই। আপনাদের সাক্ষী রেখে আমি সবাইকে মাফ করে দিলাম। আমি যেহেতু ক্ষমা করে দিচ্ছি, আমি আশা করি আমার আল্লাহও তাদের ক্ষমা করে দেবেন। আমি আল্লাহর ক্ষমা পেতে চাই। মানুষ হিসেবে আমিও ভুলের ঊর্ধ্বে নই।’

গুপ্ত-সুপ্ত নিয়ে কোনো জবাব দিতে চান না উল্লেখ করে শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘এখানে উপস্থিত লাখো মানুষ—আপনারা কি সবাই গুপ্ত নাকি? তো কেউ বললেই কি আমরা গুপ্ত হয়ে যাব? এগুলো ফেলে দেন, এগুলো পুরোনো কাসুন্দি। এগুলোতে কিছু আসে-যায় না। যাঁরা বলেছেন, যান—এইটাও তাঁদের মাফ করে দিলাম। আমরা দেশে ছিলাম। আমরা সিজনাল না। আল্লাহ এখানে পয়দা করেছেন। এই দেশটাকে আপন মনে গড়তে চাই।’

ফরিদপুর জেলা জামায়াত আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের জেলা আমির মো. বদরউদ্দীন। আরও বক্তব্য দেন ফরিদপুর-২ আসনের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শাহ আকরাম আলী, ফরিদপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী আবদুত তাওয়াব, ফরিদপুর-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. সরোয়ার হোসেন, রাজবাড়ী-১ আসনের জামায়াতের নুরুল ইসলাম, রাজবাড়ী-২ আসনের এনসিপির প্রার্থী জামিল হিজাযী, মাদারীপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম প্রমুখ। তাঁদের প্রত্যেকের হাতে নিজ নিজ দলীয় প্রতীক তুলে দিয়ে তাঁদের পক্ষে এবং গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে ভোট চান জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান।

ফরিদপুরের প্রতি বেইনসাফি করবেন না উল্লেখ করে জনসভায় জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘আল্লাহ-তাআলার ইচ্ছা এবং সাহায্যে আমরা যদি আগামী নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের জনগণের সেবা করার সুযোগ পাই, কথা দিয়ে যাচ্ছি, ফরিদপুর নামেই বিভাগ হবে ইনশা আল্লাহ। অন্য কোনো নামে নয়। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত যে কয়টি বিভাগ আছে, নির্দিষ্ট সুনিশ্চিত জায়গার নামে হয়েছে। এইটা নিয়ে ছলচাতুরী করার কোনো দরকার ছিল না।’

জেদি মানসিকতা থেকেই ফরিদপুরকে পিছিয়ে রাখা হয়েছিল—অভিযোগ করে শফিকুর রহমান বলেন, ফরিদপুরের সমসাময়িক অনেক জেলায় বিভাগীয় হেডকোয়ার্টার হয়েছে, মেট্রোপলিটন সিটি হয়েছে, কিন্তু ফরিদপুর কেন মাটির সঙ্গে গড়াগড়ি খাচ্ছে? কেন হলো না? হলো না কারণ ফরিদপুর জায়গাটা ফরিদপুরেই থেকে গেছে, অন্য একটা জায়গায় হয় নাই।

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতের আমির বলেন, ‘দেশের পাঁচ-পাঁচটা বিশ্ববিদ্যালয়ে যুবকেরা রায় দিয়ে বলে দিয়েছে, আমরা নতুন বাংলাদেশ চাই। সেই নতুন বাংলাদেশের পক্ষে তারা দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। তখন কিছু লোক বলে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আর ছাত্র সংসদ নির্বাচন এক নয়। আমি তাদের জিজ্ঞেস করতে চাই, আমাদের এই সন্তানদের আবার কেন অপমান করা হচ্ছে? তারা কি এই দেশের নাগরিক না? তারা কি এই দেশের ভালো-মন্দ বুঝে না? তারা কি এই দেশ নিয়ে চিন্তাভাবনা করে না? তারা কি একটা সুন্দর দেশ দেখতে চায় না? তো যাঁরা এই কথা বলেন, কার্যত তাঁরা যুবসমাজকে অপমান করেন।’