বগুড়ায় জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে ঝুলানো ব্যানার দুটি খুলে ফেলা হয়েছে। তবে এখনো তালা খোলেনি। গত শনিবার তোলা
বগুড়ায় জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে ঝুলানো ব্যানার দুটি খুলে ফেলা হয়েছে। তবে এখনো তালা খোলেনি। গত শনিবার তোলা

বগুড়ায় জাপার কার্যালয় দখল

ব্যানার সরিয়ে নেওয়া হলেও এখনো খোলেনি তালা

বগুড়ায় জাতীয় পার্টির (জাপা) কার্যালয় দখল করে টাঙানো ব্যানার সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমানের নির্দেশনার পর গতকাল সোমবার রাতে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান গবেষণাকেন্দ্র’ ও ‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাগণ’ লেখা ব্যানার দুটি খুলে নেওয়া হয়। তবে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে কার্যালয়ে লাগানো তালা এখনো খুলে দেওয়া হয়নি।

আজ বিকেল চারটায় শহরের কবি নজরুল ইসলাম সড়কে জেলা জাপার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, গত শনিবার ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে কার্যালয়ের বাইরে টাঙিয়ে দেওয়া ব্যানার দুটি নেই। কার্যালয়ের ফটকে তালা ঝুলছে।

জেলা জাপার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান সরকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে শনিবার কিছু ব্যক্তি জাপার কার্যালয় দখল করে বাইরে দুটি ব্যানার টাঙিয়ে দেন। জাপার মহাসচিবের পক্ষ থেকে বগুড়ার জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করার পর গতকাল রাতে দুটি ব্যানার সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে তাঁদের লাগিয়ে দেওয়া তালা এখনো খুলে নেওয়া হয়নি।

এদিকে জেলা জাপার কার্যালয় দখল করে ‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাগণ’ নামে ব্যানার ঝুলিয়ে দেওয়া হলেও জুলাই শহীদ পরিবারের কোনো সদস্য কিংবা সংগঠন কার্যালয় দখলের সঙ্গে জড়িত নয় বলে দাবি করা হয়েছে। ‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’ বগুড়া শাখার পক্ষ থেকে আজ গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ‘শহীদ পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, উক্ত ঘটনার সঙ্গে কোনো শহীদ পরিবারের সদস্য কিংবা সংগঠনের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। তারা এ বিষয়ে কিছুই জানে না এবং এমন কোনো কর্মসূচি গ্রহণ বা সমর্থনও করে না। জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারগুলার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।’

জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য আবির ইসলাম, নজরুল ইসলাম, শামছুল হক, উজ্জ্বল হোসেন, জিয়াউর রহমান প্রমুখ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে শহীদ পরিবারগুলোর নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনমনে ভুল ধারণা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। জুলাই আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের নাম রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা অনৈতিক ও অমানবিক।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, শনিবার দুপুরে ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে কয়েকজনের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহরের কবি নজরুল ইসলাম সড়কে জাপার কার্যালয় দখলে নেওয়া হয়। এ সময় কার্যালয়ে জাপার পক্ষ থেকে টাঙানো একটি ব্যানার খুলে কার্যালয়ের বাইরে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান গবেষণাকেন্দ্র’ ও ‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাগণ’ লেখা দুটি ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়।

কার্যালয় দখলের পর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। নিজেকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ দাবি করে শহরের বাদুরতলা ইদরিস খান লেনের বাসিন্দা জোবায়ের আলম (৩৮) শনিবার বিকেলে সদর থানায় এ জিডি করেন। এতে হামলা ও হুমকির অভিযোগ আনা হয়। জিডিতে জেলা জাপার কার্যালয়কে ‘এনসিপির দলীয় প্রচারণা অফিস’ হিসেবে ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়। কার্যালয় দখলের ঘটনায় গত রোববার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ডেকে জাপার কার্যালয় থেকে ব্যানার সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।