
মাদক মামলায় মা–বাবা কারাগারে—এই সুযোগে অপহরণ করা হয় তাঁদের একমাত্র শিশুসন্তানকে। প্রায় এক মাস পর গাজীপুরের পুবাইল এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে শিশুটিকে ভিক্ষাবৃত্তিতে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল রোববার রাত ১০টায় গাজীপুরের পুবাইল থানাধীন হায়দরাবাদ দিলারটেক মসজিদ মার্কেট–সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার শিশুর নাম মো. বায়েজিদ (৩)।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় সোমবার পুবাইল থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলায় তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। তিন আসামির মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন চাঁদপুরের কচুয়া থানার কাঠাদিয়া এলাকার মো. সিরাজের ছেলে মো. শহীদ (৪৬) ও শহীদের স্ত্রী শিল্পী আক্তার (৪৫)। তাঁরা পুবাইল থানাধীন ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের দিলারটেক এলাকায় মিছির আলীর বাড়িতে ভাড়া থাকেন। মামলার পলাতক আসামির নাম সুমি আরজো (৩৫)। তিনি অপহরণে সহযোগিতা করেছেন বলে জানায় পুলিশ।
আজ সোমবার বিকেলে শিশু উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান। প্রথম আলোকে তিনি জানান, উদ্ধার শিশুকে রাজধানীর ছোটমণি নিবাসে পাঠানো হয়েছে।
টঙ্গী পূর্ব থানার আমতলী এলাকার বাসিন্দা মো. জয় ও তাঁর স্ত্রী জাহানারা আক্তার দুই মাস আগে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যান। এরপর তাঁদের তিন বছর বয়সী ছেলে বায়েজিদকে দেখাশোনা করছিলেন প্রতিবেশীরা।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ১৬ আগস্ট দুপুরে আমতলীর ভাড়া বাসার সামনে থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায় শিশুটি। প্রতিবেশীরা আশপাশে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাচ্ছিলেন না। প্রায় এক মাস পর গতকাল রোববার রাতে ভাড়া বাড়ির মালিকের নাতি মো. রাব্বির মাধ্যমে জানা যায়, শিশুটিকে পুবাইলের হায়দরাবাদ দিলারটেক এলাকায় শহীদ নামের এক ব্যক্তির বাসায় আটকে রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে এবং শহীদ ও শিল্পী আক্তারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার দুজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, মা-বাবা জেলে থাকার সুযোগে সুমি আরজু শিশুটিকে অপহরণ করেন এবং তার ওপর নির্যাতন চালান। ভিক্ষাবৃত্তিতে ব্যবহারের লক্ষ্যে শহীদ-শিল্পী দম্পতির কাছে তিনি শিশুটিকে আটকে রাখেন।
পুবাইল থানার ওসি আতিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, মানব পাচার আইনে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।