আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলম
আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলম

ধর্ষণ ও নির্যাতনের মামলায় হিরো আলমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

বিয়ের প্রতিশ্রুতি ও নায়িকা বানানোর আশ্বাস দিয়ে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলায় আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলমের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন বগুড়ার একটি আদালত।

আজ মঙ্গলবার বগুড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ আদালতের বিচারক মো. আনোয়ারুল হক এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আলী আজগর বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন।

গত বছরের ৬ মে এক নারী বাদী হয়ে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলাটি করেন। ওই দিন আদালতের বিচারক বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পিবিআইয়ের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন। পিবিআই তদন্ত শেষে আজ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় মামলার অপর পাঁচ আসামিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, হিরো আলম বিয়ের প্রতিশ্রুতি ও নায়িকা বানানোর আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। পরে এক মৌলভি ডেকে কবুল পরিয়ে তাঁকে বিয়ে করার কথা বলে বিভিন্ন স্থানে বাসা ভাড়া নিয়ে একসঙ্গে বসবাস করেন। একপর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে গত বছরের ১৮ এপ্রিল বগুড়ার নিজ বাড়িতে নিয়ে গর্ভপাতের জন্য চাপ দেওয়া হয়। রাজি না হওয়ায় ২১ এপ্রিল হিরো আলমসহ অন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁকে মারধর করেন। এতে গুরুতর রক্তক্ষরণ হলে ওই নারীকে শহরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাঁর গর্ভপাত ঘটে। পরবর্তী সময়ে ২৪ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ ছাড়া সিনেমা তৈরির কথা বলে হিরো আলম ওই নারীর কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ধার নেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

জানতে চাইলে হিরো আলম প্রথম আলোকে বলেন, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। তাঁর জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে পরিকল্পিতভাবে এই মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রভাবিত হয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন। তিনি উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন করবেন।