খাসজমি দখল করে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তোরাঁ। ৯ এপ্রিল দুপুরে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং পর্যটনকেন্দ্র এলাকায়
খাসজমি দখল করে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তোরাঁ। ৯ এপ্রিল দুপুরে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং পর্যটনকেন্দ্র এলাকায়

জাফলং পর্যটনকেন্দ্রের খাসজমি দখলের সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি, ৮ ব্যবসায়ীর নাম

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র জাফলংয়ে বিজিবি ক্যাম্প-সংলগ্ন সরকারি খাসজমি দখল করে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও দোকানপাট নির্মাণের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে উপজেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি। তদন্তে সরকারি জমিতে অন্তত ৫০টি দোকানপাট নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনার প্রমাণ মিলেছে। সরকারি খাস জায়গা দখলে আটজন ব্যবসায়ী জড়িত বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তাঁদের নামও প্রকাশ করা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ১৩ জুলাই তা জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের কাছে পাঠান। এর আগে গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা ভূমি অফিসের নির্দেশে ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় এ তদন্ত পরিচালনা করে। গত ২৪ জুন ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. আবদুল মোনায়েম তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে জমা দেন। পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতিবেদনটি ইউএনওর কাছে পাঠান।

এর আগে গত ১০ এপ্রিল প্রথম আলোর ষষ্ঠ পৃষ্ঠায় ‘অবৈধ স্থাপনায় সংকটে পর্যটন’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জাফলংয়ে সরকারি খাসজমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গোয়াইনঘাট উপজেলার চৈলাখেল তৃতীয় খণ্ড মৌজার সরকারি খাসজমির একটি অংশ বিজিবি অধিগ্রহণ করলেও অবশিষ্ট জমির প্রায় ৪ দশমিক ৮৬ একর বিভিন্ন ব্যক্তি অবৈধভাবে দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। প্রতিবেদনে আটজন দখলদারের নাম ও সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা ৫০টি দোকানপাটের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তে যে ৮ ব্যক্তির নাম রয়েছে

তদন্ত প্রতিবেদনে সরকারি খাসজমি দখলে আট ব্যবসায়ীর নাম প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন গোয়াইনঘাটের নলজুরী এলাকার আবদুল কুদ্দুছ, তাঁর ভাই ফারুক আহমদ, গোয়াইনঘাট মোহাম্মদপুরের আনোয়ার হোসেন ওরফে জুবের আহমদ, জৈন্তাপুরের কানিকপাড়া এলাকার নুরুজ্জামান, গোয়াইনঘাট লাখেরপাড় এলাকার আলম বখত, বাবুল বখত, রায়হান ও উমর আলী।

তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে জানিয়ে গোয়াইনঘাটের ইউএনও রতন কুমার অধিকারী বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।