
গাজীপুরের শ্রীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সড়কের লেন দখল করে বাজার ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় এ কর্মসূচি পালিত হয়।
‘শ্রীপুর উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শতাধিক মানুষ অংশ নেন। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, উপজেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ মহাসড়কের চলাচল লেনের ওপর বাজার ইজারা দিয়ে জনদুর্ভোগ তৈরি করছেন। ইজারা নেওয়া প্রভাবশালীরা সড়কের বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র বাজার বসিয়ে যানজট সৃষ্টি করছেন।
বক্তাদের দাবি, প্রতিদিন দুপুর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মাওনা চৌরাস্তা, জৈনাবাজার, গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি, গাজীপুর সদরের বাঘের বাজার, ভবানীপুরসহ বিভিন্ন পয়েন্টে বাজার বসে। এতে চার লেনের মহাসড়কে কার্যত একটি লেন যান চলাচলের জন্য খোলা থাকে। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে সার্বক্ষণিক বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করায় বাজার বসানোর ফলে নিয়মিত যানজট লেগে থাকে।
বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর দু-এক দিনের জন্য বাজার সরিয়ে নেওয়া হলেও পরে আবার আগের মতো বসানো হয় উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, শুধু যানজট নয়, শিল্পাঞ্চল হওয়ায় বিপুলসংখ্যক পথচারীকেও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। বাজার বসানোর কারণে ফুটপাত পুরোপুরি দখলে চলে যায়।
শিক্ষক ও লেখক মিশকাত রাসেল বলেন, ‘শ্রীপুরের শ্রী (সৌন্দর্য) রক্ষা করতে আমরা দাঁড়িয়েছি। প্রশাসনের উদ্দেশে বলছি, মহাসড়ক ইজারা দেওয়া যাবে না। আমাদের দাবি সাধারণ মানুষের স্বার্থে। দাবি না মানলে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।’
বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দল শ্রীপুর শাখার সভাপতি সাঈদ চৌধুরী বলেন, যানজটের কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িগুলো বের হতে পারে না। সড়কে বাজার বসানোর কারণে এমনটি হচ্ছে। শুধু মাওনা চৌরাস্তা নয়, বাঘের বাজার, গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়িতে বাজার বসানো হচ্ছে। সড়ককেন্দ্রিক কোনো ইজারা দেওয়া যাবে না।
পরিবেশকর্মী শফি কামাল বলেন, বাজার ইজারা দেওয়ার নামে অসাধু ব্যক্তিদের অবৈধ আয়ের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। হাইওয়ে রোড এবং ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে অস্থায়ী দোকান ইজারা বন্ধ করতে হবে। সড়ক নিরাপদ করার দায়িত্বে নিয়জিত প্রতিষ্ঠানকে নাগরিকদের স্বার্থ দেখে ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও শ্রীপুর পৌরসভার প্রশাসক সজীব আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, এগুলো সরকারি তালিকাভুক্ত বাজার। ইজারা না দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ১৯৬৫ সাল থেকে এগুলো সরকারি তালিকাভুক্ত। জনভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাজারটি সরকারি তালিকা থেকে অপসারণের জন্য গত বছরের ডিসেম্বর মাসে শ্রীপুর পৌরসভার পক্ষ থেকে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে অনুমোদনের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
ইউএনও সজীব আহমেদ আরও বলেন, মহাসড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। তবে সেগুলো মনিটরিং করার দায়িত্ব হাইওয়ে ও জেলা পুলিশের। তারা নিয়মিত মনিটরিং করছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।