চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে হৃদ্রোগ সার্জারি (কার্ডিয়াক সার্জারি) বিভাগে কর্মরত সার্জন আছেন ছয়জন। সপ্তাহের ছয় দিন অস্ত্রোপচার করার সক্ষমতা আছে। কিন্তু এখন মাসে অস্ত্রোপচার হয় সর্বোচ্চ ছয় থেকে সাতটি। ফলে এক যুগ আগে চালু হওয়া এই বিভাগ রোগীদের কাজে আসছে কম।
রোগী, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও বিভাগের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিভাগটি কখনো সক্ষমতার পুরোপুরি সেবা দিতে পারেনি। শুরুর দিকে সপ্তাহে অন্তত তিনটি ওপেন হার্ট সার্জারি হলেও দিনে দিনে তা কমেছে। অথচ চট্টগ্রামসহ আশপাশের সাতটি জেলা—কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির মানুষের কার্ডিয়াক সার্জারির জন্য সরকারি একমাত্র হাসপাতাল এটি।
আজ ২৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ব হার্ট দিবস। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘প্রতিটি হৃৎস্পন্দনই জীবন’। অর্থাৎ যত্ন নিতে হবে প্রতিটি হৃৎস্পন্দনের।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৫ সালের ‘হেলথ অ্যান্ড মরবিডিটি স্ট্যাটাস সার্ভে’তে দেখা যায়, হার্টের সমস্যা আছে, সারা দেশে এমন রোগীর সংখ্যা গড়ে প্রতি হাজারে ৩১ জনের বেশি। চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে এই হার প্রতি হাজারে ৩৪ থেকে ৩৬ জন। অর্থাৎ জাতীয় গড়ের চেয়ে চট্টগ্রাম ও বরিশালে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি। ঢাকা ও রংপুরে এ রোগের প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক কম, গড়ে হাজারে ২৪ থেকে ২৬ জন।
চট্টগ্রাম মেডিকেলে সেবা সীমিত হওয়ার পেছনে দুটি কারণের কথা জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা—পর্যাপ্ত জনবল না থাকা ও যন্ত্রপাতির সংকট। বিভাগটি পূর্ণ সেবা দিতে ৩৫ জন চিকিৎসক, ২৫ জন নার্সসহ ৯০ জনের জনবল চাহিদা দেওয়া হয় শুরু থেকেই। কিন্তু কখনোই তা পূরণ হয়নি। বর্তমানে অর্ধেকের কম জনবল, ৪০ জন নিয়ে চলছে কার্যক্রম। ন্যূনতম সেবা দিতে হলে প্রয়োজন অন্তত ৬০ জন।
চিকিৎসকদের পদের মধ্যে ১২ জন সার্জন, ৪ জন অবেদনবিদ (অ্যানেসথেটিস্ট), ২ জন চিকিৎসা কর্মকর্তা, ৪ জন সহকারী রেজিস্ট্রার ও ১ জন রেজিস্ট্রার থাকার কথা। বর্তমানে কর্মরত আছেন ছয়জন সার্জন, দুজন অবেদনবিদ, একজন রেজিস্ট্রার ও তিনজন সহকারী রেজিস্ট্রার। এ ছাড়া ওপেন হার্ট সার্জারির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পারফিউশনিস্ট (অস্ত্রোপচারের সময় হার্ট ও ফুসফুস সচল রাখেন) পদে কাউকে নিয়োগই দেওয়া হয়নি। শুরুতে ঢাকা থেকে এনে কাজ চালানো হয়েছে। এখন হাসপাতালের একজন জ্যেষ্ঠ নার্সকে প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজটি চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
শুরুর দিকে কর্মরত বিভাগের সাবেক সহকারী অধ্যাপক (বর্তমানে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিউটে) মোহাম্মদ ফজলে মারুফ বলেন, ৯ কোটি টাকা খরচ করে ভবনসহ যন্ত্রপাতি দিয়ে বিভাগটি চালু হয়েছিল। একটি কার্ডিয়াক সার্জারি ইউনিটের জন্য যা যা প্রয়োজন, দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পর্যাপ্ত জনবল ও পরবর্তী সময়ে যন্ত্রপাতির জন্য বরাদ্দ না দেওয়ায় চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকলেও বিভাগটির পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ৪০ শয্যার কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগ চালু হয় ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে। সে সময় কার্ডিয়াক সার্জারি, পেডিয়াট্রিক কার্ডিয়াক সার্জারি, কার্ডিয়াক অ্যানেসথেসিয়া ও ভাসকুলার সার্জারি ইউনিট চালুর কথা। শুরুতে পরিকল্পনা একসঙ্গে হলেও পরে ভাসকুলার সার্জারিকে আলাদা বিভাগ করা হয়। এখন বহির্বিভাগ, আইসিইউ, অস্ত্রোপচার ও সাধারণ শয্যা—এই চার সেবা রয়েছে কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগে।
বিভাগে অস্ত্রোপচার শুরু হয় ২০১৪ সালের এপ্রিলে। তখন থেকে চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভাগটিতে ৯১২টি অস্ত্রোপচার হয়েছে। এর প্রায় ৯০ শতাংশই ওপেন হার্ট সার্জারি। এখানে ওপেন হার্ট সার্জারির খরচ ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। নগরের তিনটি বেসরকারি হাসপাতালে এই খরচ তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা। ঢাকার বাইরে সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এটিই প্রথম কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগ।
বিভাগে ওপেন হার্ট সার্জারির জন্য দুটি অস্ত্রোপচার কক্ষ (ওটি) থাকলেও এখন ব্যবহার হচ্ছে একটি। অন্যটির যন্ত্রপাতি নষ্ট। এ ছাড়া অস্ত্রোপচারের পর রোগীকে লাইফ সাপোর্টে রাখার গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র চারটি ভেন্টিলেটরের মধ্যে কার্যত সচল একটি। আর হার্ট-লাং ও অ্যানেসথেসিয়া মেশিনের দুটির মধ্যে একটি করে সচল আছে, বাকিগুলো নষ্ট। এসব যন্ত্র চার থেকে পাঁচ বছর ধরে নষ্ট বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা জানান, যন্ত্রপাতি ও জনবলসংকটে ২০২৪ সালে এক মাস কার্ডিয়াক সার্জারি বন্ধ ছিল। এর আগে করোনা মহামারির সময় ২০২০ সালে জনবলসংকটের কারণে দুই মাস বন্ধ ছিল অস্ত্রোপচার। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫ জন রোগী বিভাগের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেন। অস্ত্রোপচারের জন্য ভর্তি হন মাসে গড়ে ১০ জন। স্বল্প জনবল দিয়েই এসব রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
গত জুন মাসে হাসপাতালের পরিচালকের এক চিঠিতে দেখা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে চিকিৎসা যন্ত্রপাতি স্থানীয়ভাবে ক্রয়ের লক্ষ্যে বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা (এপিপি) প্রণয়ন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চাহিদা প্রেরণের জন্য চাহিদাপত্র আহ্বান করেন তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগ থেকে ৩৫ ধরনের যন্ত্রপাতির চাহিদা দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে এসব যন্ত্রপাতির আনুমানিক মূল্য ১৪ থেকে ১৯ কোটি টাকা।
চাহিদাপত্রে উল্লেখ করা যন্ত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম ২টি আনুষঙ্গিক সামগ্রীসহ হার্ট-লাং মেশিন, ১টি ট্রান্সপোর্ট ভেন্টিলেটর, ওটির ৮টি ইনভেসিভ কার্ডিয়াক মনিটর, আইসিইউর জন্য ১টি ইনভেসিভ কার্ডিয়াক মনিটর, ১টি কার্ডিয়াক ওটি টেবিল, ৬টি আনুষঙ্গিক সামগ্রীসহ মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটর, ১২টি এক্সটার্নাল পেসমেকার জেনারেটর, ১০টি আইসিইউ বেড, ১০টি স্টেপ-ডাউন বেড।
কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক কাজী আবুল আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রতিবছরই চাহিদাপত্র দিচ্ছি। যন্ত্রপাতির পাশাপাশি এখানে জনবল ও আনুষঙ্গিক জিনিসপত্রও প্রয়োজন। অস্ত্রোপচার করার আগে বিদ্যুৎ, সেন্ট্রাল এয়ারলাইন—সব দিকে আগে ঘোষণা দিতে হয় যাতে বিদ্যুৎ না যায় কিংবা অস্ত্রোপচারের সময় হার্ট-লাং যন্ত্রের যে বাতাস, সেটি বন্ধ না হয়। এরপর সপ্তাহে অন্তত দুটো ওটি আমরা করার চেষ্টা করি।’
হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি সেন্টারের পাশ দিয়ে কিছুদূর গেলে কার্ডিয়াক সার্জারি ভবন। ভবনের নিচতলায় বহির্বিভাগ, দ্বিতীয় তলায় কার্ডিওলজি ওয়ার্ড এবং তৃতীয় তলায় কার্ডিয়াক সার্জারি ওয়ার্ডের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ), পোস্ট–অপারেটিভ কেয়ার ইউনিট ও অস্ত্রোপচার কক্ষ। চতুর্থ তলায় সাধারণ শয্যা। সেখানে ৪০টির মধ্যে সচল আছে ২২টি শয্যা। বিভাগের আটটি আইসিইউ শয্যার মধ্যে কার্যকর কেবল তিনটি।
২১ দিন ধরে কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগে ভর্তি জামাল উদ্দিন। ষাটোর্ধ্ব জামাল উদ্দিন শিক্ষকতা থেকে কয়েক বছর আগে অবসরে যান। আগে থেকে হার্টের নানা সমস্যা ছিল তাঁর। চিকিৎসকেরা এখন ওপেন হার্ট সার্জারির পরামর্শ দিয়েছেন। তবে সিরিয়াল না পাওয়ায় অপেক্ষা করছেন তিনি। একই ভোগান্তি আরও অনেক রোগীর।
গতকাল সোমবার সরেজমিনে কথা হলে জামাল উদ্দিন জানান, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসকেরা নিয়মিত তাঁর খোঁজখবর নিচ্ছেন। তবে বিভাগে রোগীর চাপ বেশি থাকায় অস্ত্রোপচারের জন্য সিরিয়াল পেতে দেরি হচ্ছে।
অস্ত্রোপচারে দীর্ঘ অপেক্ষার বিষয়ে চিকিৎসকেরা জানান, অস্ত্রোপচারের পর রোগীকে লাইফ সাপোর্টে রাখতে ভেন্টিলেটর প্রয়োজন হয়। হাসপাতালে চালুর সময় ছয়টি ভেন্টিলেটর থাকলেও বর্তমানে আছে চারটি। এর দুটি নষ্ট, বাকি দুটির একটিতে ইউপিএস সমস্যা রয়েছে। কার্ডিয়াক সার্জারির রোগীর ক্ষেত্রে ঝুঁকি নিয়ে সেটি ব্যবহার করতে চান না চিকিৎসকেরা। কারণ, বিদ্যুৎ গেলে সেটি কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আহসান উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের এখানে রোগী আসে অনেক। সে অনুপাতে চিকিৎসকের সক্ষমতাও আছে। মূল সংকট জনবল ও যন্ত্রপাতিতে। অনেক যন্ত্রপাতি নষ্ট। জনবল এবং পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করা গেলে প্রতিদিনই ওপেন হার্ট সার্জারি করা সম্ভব।’
শুধু কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগ নয়, এ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগও যন্ত্রপাতির সংকটে ভুগছে। চট্টগ্রাম জেলাসহ আশপাশের অন্তত সাতটি জেলার রোগীরা স্বল্প মূল্যে চিকিৎসা নিতে এখানে আসেন। ফলে প্রতিদিন এই হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর চাপ। সেবা দেওয়ার মতো জনবল থাকলেও যন্ত্রপাতির সংকট রয়েছে এই বিভাগে।
হাসপাতালে ক্যাথল্যাব চালুর তথ্য পাওয়া গেছে ২০০৩ সাল থেকে। ক্যাথল্যাবে হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালির সমস্যা শনাক্ত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্টেন্ট, পেসমেকারসহ বিভিন্ন চিকিৎসা করা হয়। হাসপাতালে তিনটি ক্যাথল্যাবের একটি ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে নষ্ট। বাকি দুটির একটি ক্যাথল্যাবেও যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। ওই ক্যাথল্যাবে জেনারেটর সংযোগ নেই। বিদ্যুৎ চলে গেলে সেটিও কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে ১ হাজার ৩৫৩টি করোনারি এনজিওগ্রাম (সিএজি) ও পেরিফেরাল এনজিওগ্রাম (পিএজি) করা হয়েছে। একই সময়ে ক্যাথেটারের মাধ্যমে রক্তনালি খোলা এবং স্টেন্ট বা রিং বসানো হয়েছে ৬৬১টি। এ ছাড়া ৪৬টি অস্থায়ী পেসমেকার (টিপিএম) দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সাল থেকে গত জুলাই পর্যন্ত মোট এনজিওগ্রাম হয়েছে ৮ হাজার ১১৫টি। প্রতিদিন গড়ে ২০০ রোগী ভর্তি থাকেন।
হৃদ্রোগ বিভাগে প্রতিদিন শতাধিক ইসিজি করতে হয়। তবে ইসিজির জন্য মেশিন আছে মাত্র তিনটি। চারটি ইকোকার্ডিওগ্রাম মেশিনের একটি নষ্ট। প্রতি মাসে গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ রোগীর ইকো ও ইটিটি পরীক্ষা করা হয়। এ ছাড়া এক্সারসাইজ টলারেন্স টেস্ট (ইটিটি) ও দীর্ঘ সময় হৃদ্যন্ত্রের স্পন্দন পর্যবেক্ষণের জন্য হোল্টার মনিটর রয়েছে একটি করে। রোগীর তুলনায় এই সংখ্যা পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
চমেক হাসপাতালের হৃদ্রোগ বিভাগের প্রধান মো. নূর উদ্দিন তারেক বলেন, চট্টগ্রামে হৃদ্রোগী বাড়ছে। পুরো চাপটাই এই হাসপাতালকে সামাল দিতে হয়। রোগীর তুলনায় যন্ত্রপাতির স্বল্পতা আছে। যন্ত্রপাতি ও জনবলের সমস্যা সমাধান করা গেলে রোগীদের দ্রুত সেবা দেওয়া সম্ভব। বর্তমানে যেটুকু জনবল ও যন্ত্রপাতি আছে, তা দিয়ে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। স্বল্প মূল্যেই রোগীরা সেবা পাচ্ছেন।
কার্ডিয়াক সার্জারি ও কার্ডিওলজি বিভাগের যন্ত্রপাতির স্বল্পতা দ্রুত সমাধানে কাজ করা হবে বলে জানান চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন। তিনি বলেন, বিভাগের কাছে যন্ত্রপাতির বিষয়ে তালিকা চাওয়া হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জানানো হবে। রোগীরা যাতে স্বল্প মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পান, সেই লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। হাসপাতালের নতুন দুই ভবনে সাতটি ক্যাথল্যাব থাকবে।
বর্তমানে চমেক হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সহসভাপতির দায়িত্বে আছেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, শুধু দুই ওয়ার্ড নয়, হাসপাতালে বিভিন্ন যন্ত্রপাতির সমস্যা রয়েছে। বিষয়গুলো নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে কথা বলা হয়েছে। যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে। হাসপাতালটিতে সেবা দেওয়ার জন্য সব সুবিধা নিশ্চিত করতে চান তাঁরা।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপর বিপুলসংখ্যক রোগী নির্ভরশীল। সে তুলনায় হৃদ্রোগ চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, অবকাঠামো ও চিকিৎসাসুবিধা এখনো অপ্রতুল।
চট্টগ্রামে জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করে বেসরকারি সংগঠন জনস্বাস্থ্য অধিকার রক্ষা কমিটি। এর সদস্যসচিব সুশান্ত বড়ুয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘যন্ত্রপাতি ছিল, নষ্ট হয়েছে, মেরামতের জন্য দেওয়া হয়েছে’—এ ধরনের কথা মানুষ শুনতে চায় না। মানুষ দেখতে চায়, সরকার যে চিকিৎসাসুবিধা দেওয়ার কথা বলছে, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি ও কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগ সেই সুবিধার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে কি না। কর্তৃপক্ষকে সক্রিয় হতে হবে এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।