জামালপুরের সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ ক্যাম্পাসে তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে ভোটের আড্ডায়। গতকাল সোমবার সকালে তোলা
জামালপুরের সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ ক্যাম্পাসে তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে ভোটের আড্ডায়। গতকাল সোমবার সকালে তোলা

প্রথমবার ভোট দেবেন, উচ্ছ্বসিত জামালপুরের প্রায় দেড় লাখ তরুণ ভোটার

জামালপুরের সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ থেকে সদ্য স্নাতক শেষ করা রুবেল হাসান ২০২০ সালে ভোটার হন। তবে কখনো ভোট দিতে পারেননি। কেন্দ্রের পরিবেশ নিয়ে আশ্বস্ত হতে না পারায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ভোট দিতে যাননি। মাদারগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের এই তরুণ এবার প্রথমবার ভোট দিতে আগ্রহী।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুরের পাঁচটি সংসদীয় আসনে এবার প্রায় দেড় লাখ নতুন ভোটার নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। তরুণ ভোটারদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে যেমন আছে উচ্ছ্বাস, তেমনি ভোটের পরিবেশ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে শঙ্কাও কাজ করছে।

রুবেল বলেন, ‘নির্বাচনের দিন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকলে অবশ্যই ভোট দিতে যাব। তবে এবারের নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন মনে হচ্ছে। ভোটের উৎসব চোখে পড়ে না। দীর্ঘদিন ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলাম। আমার একটি ভোট ভবিষ্যতের জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা রাখবে—এ বিশ্বাস থেকেই ভোট দিতে চাই। তবে অতীত অভিজ্ঞতার কারণে শঙ্কাও থেকে যাচ্ছে।’

একই কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার সদর উপজেলার দিগপাইত ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার। প্রথমবার ভোটার হওয়া নিয়ে উচ্ছ্বাসের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যিনি উন্নয়ন করতে পারবেন বলে মনে করব, তাঁকেই ভোট দেব। তবে নির্বাচনের আগে অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পরে আর খোঁজ পাওয়া যায় না—এটা হতাশার।’

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জামালপুরের পাঁচটি আসনে এবার মোট ভোটার ২১ লাখ ৩৫ হাজার ৯৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৭ জন এবং নারী ভোটার ১০ লাখ ৬৬ হাজার ৮৮১ জন। ২০২৪ সালের নির্বাচনের তুলনায় এবার ভোটার বেড়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ১৩২ জন। ভোটারের একটি বড় অংশই তরুণ। এ কারণে তরুণ ভোটারদের গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন প্রার্থীরা। নির্বাচিত হলে তরুণদের জন্য কাজ করার আশ্বাস দিচ্ছেন তাঁরা।

সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ ক্যাম্পাসে এক আড্ডায় অংশ নেওয়া অন্তত ১৭ জন তরুণ-তরুণী বলেন, তাঁরা উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে চান। অতীতের মতো কেন্দ্র দখল বা জাল ভোটের পুনরাবৃত্তি দেখতে চান না।

জেলার আরেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি জাহেদা শফির মহিলা কলেজ থেকে স্নাতক শেষ করা আমেনা চৌধুরী বলেন, ‘২০২২ সালে ভোটার হলেও এত দিন ভোট দেওয়ার মতো পরিবেশ অনুভব করিনি। ভোটকেন্দ্রে যাওয়া যেন সাহসের পরীক্ষা না হয়ে নাগরিক অধিকারের স্বাভাবিক চর্চা হয়—এটাই প্রত্যাশা। এবার ভোট দিতে চাই, কারণ সচেতন ভোটই একটি দায়িত্বশীল সরকার গড়ে তুলতে পারে।’

আশেক মাহমুদ কলেজ থেকে সদ্য স্নাতকোত্তর শেষ করা রোদেলা ইসলাম বলেন, আগের নির্বাচনে তিনি ভোট দিতে পারেননি। তিক্ত অভিজ্ঞতাটি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে গিয়ে জানতে পারি, আমার ভোট আগেই দেওয়া হয়েছে। এবার সেই অভিজ্ঞতা আর দেখতে চাই না। ৫ আগস্টের পর অনেকের মতো আমিও একটি সুন্দর নির্বাচনের প্রত্যাশা করছি। তবু মনে শঙ্কা কাজ করে—নিজের ভোট নিজে দিতে পারব তো?’

জামালপুর মেডিকেল কলেজের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘এই নির্বাচন নিয়ে আমি খুবই উৎসাহী। এটি আমার জীবনের প্রথম ভোট। প্রত্যাশা একটাই—ঝামেলাহীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন।’