পিটুনি
পিটুনি

কুমিল্লায় ছাত্রীকে হয়রানি ও ভিডিও ধারণের অভিযোগ, মাদ্রাসার সুপারকে পিটুনি

কুমিল্লার দেবীদ্বারে ছাত্রীকে হয়রানি ও আপত্তিকর ভিডিও ধারণের অভিযোগে মাদ্রাসার সুপারকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় লোকজন। গতকাল শনিবার দুপুরে উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের হোসেনপুর ভূঁইয়াবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পরে ওই ব্যক্তিকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। তিনি একটি মাদ্রাসা ও এতিমখানা কমপ্লেক্সের সুপার এবং স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম। দশম শ্রেণিপড়ুয়া এক কিশোরী তাঁর কাছে প্রাইভেট পড়ত।

মাদ্রাসার সুপারের বাড়ি কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায়। স্থানীয় বাসিন্দা ও মাদ্রাসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁর মুঠোফোনে থাকা কিছু আপত্তিকর ভিডিও নিয়ে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়। পরে তাঁর বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে হয়রানি ও ভিডিও ধারণের অভিযোগ ওঠে। সম্প্রতি এসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এ নিয়ে স্থানীয় লোকজন গতকাল সকালে মাদ্রাসা কমপ্লেক্স থেকে সুপারকে আটক করে মারধর করেন। একপর্যায়ে কয়েকজন তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয় লোকজন চরবাকর–হোসেনপুর সীমান্ত এলাকা থেকে তাঁকে ধরে আবার মারধর শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

ওই ছাত্রীর অভিযোগ, প্রায় দেড় বছর ধরে মিজানুর রহমান তাকে বিরক্ত করতেন। এ কারণে সে তাঁর কাছে প্রাইভেট পড়া বন্ধ করে দেয়।

ওই ছাত্রীর অভিযোগ, প্রায় দেড় বছর ধরে মিজানুর রহমান তাকে বিরক্ত করতেন। এ কারণে সে তাঁর কাছে প্রাইভেট পড়া বন্ধ করে দেয়। পরে তাকে কৌশলে অচেতন করে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয় এবং সেগুলো মুঠোফোন থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ওই মাদ্রাসা কমপ্লেক্সের এক বাবুর্চি বলেন, মাদ্রাসার সুপারের ১২ বছর বয়সী ছেলে তার বাবার মুঠোফোনে কিছু ভিডিও দেখে বিষয়টি মাকে জানায়। পরে ভিডিওগুলো তাঁর কাছেও আসে। এরপর স্থানীয় কয়েকজনের মাধ্যমে ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলো তাঁর ধারণ করা নয়। স্থানীয় বিরোধের জেরে একটি পক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।
মিজানুর রহমান, মাদ্রাসা সুপার

তবে পুলিশের হাতে আটক হওয়ার আগে মিজানুর রহমান স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলো তাঁর ধারণ করা নয়। তিনি দাবি করেন, ওই ছাত্রীকে প্রায় দেড় বছর আগে প্রাইভেট পড়ানো বন্ধ করে দেন। স্থানীয় বিরোধের জেরে একটি পক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ইমরান ভূঁইয়া বলেন, মাদ্রাসার সুপার আগেও কয়েকটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেছেন। বিভিন্ন সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে নারীঘটিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছিল। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিসও হয়েছে।

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, এক ছাত্রীর অনৈতিক ভিডিও ধারণের অভিযোগে স্থানীয় লোকজন মাদ্রাসার সুপারকে মারধর করে আটকে রেখেছেন, এমন খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধারের পর থানায় নিয়ে আসে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, এক থেকে দেড় বছর আগে ওই ছাত্রী তাঁকে বিভিন্নভাবে বার্তা পাঠাত। তবে তিনি কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়াননি। ভিডিওর বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।