নাটোরের লালপুর উপজেলার দুটি মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষার্থীদের হাতে কম্বল তুলে দেন বন্ধুসভার সদস্যরা
নাটোরের লালপুর উপজেলার দুটি মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষার্থীদের হাতে কম্বল তুলে দেন বন্ধুসভার সদস্যরা

প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগ

মেঝের ঠান্ডা থেকে রক্ষা পেল দুটি মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষার্থীরা

‘আমরা ঘরের মাজিত (মেঝে) শুই। মাজিত বসিই পড়ালেকা করি। মাজিত পাড়ার মতো তেমন কিচু নাই। তাই শীতকালে খুব ঠান্ডা লাগে, কষ্ট হয়। আপনাদের কম্বল পায়া খুব ভালো হলি। কম্বল জড়ায়ে পড়তে পারবুনে।’

আজ সোমবার সকালে কথাগুলো বলছিল নাটোরের লালপুর উপজেলার লালপুর কলেজ মোড়ে অবস্থিত ছালেহা বেগম কওমি বালিকা মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির আবাসিক ছাত্রী জামেলা খাতুন। সিরাজ মিয়া মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে নাটোর বন্ধুসভার সদস্যরা আজ সকালে তাদের হাতে নতুন কম্বল তুলে দেন।

মাদ্রাসাটির মুহতামিম মাহদি হাসান বলেন, জামেলার মতো ওই মাদ্রাসার ৫১ জন আবাসিক ছাত্রী একই কষ্ট ভোগ করে। আর্থিক অনটনের কারণে শিক্ষার্থীদের জন্য গরম বিছানার ব্যবস্থা করা যায়নি। প্রথম আলো ট্রাস্টের মাধ্যমে ৫১টি কম্বল পেয়ে তাঁদের শিক্ষার্থীদের শীতের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে।

ছালেহা বেগম কওমি বালিকা মাদ্রাসার ছাত্রীদের মতো করুণ দশা দেখা গেল বালিতিতা থানা হাফেজিয়া মাদ্রাসার ছাত্রাবাসে। সেখানকার আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্যও গরম বিছানার ব্যবস্থা নেই। শীতে ছাত্রাবাসের মেঝেতে শুয়ে-বসে তাদের সময় কাটে। বন্ধুসভার সদস্যরা তাঁদের হাতেও একটি করে নতুন কম্বল তুলে দেন।

মাদ্রাসাটির মুহতামিম মোহাম্মদ মতিউর রহমান বলেন, ‘এখানে যারা পড়তে আসে, তাদের অধিকাংশ খুবই দরিদ্র পরিবারের সন্তান। তাদের অনেকের পক্ষে বিছানাপত্র নিয়ে আসা সম্ভব হয় না। আবার আমরাও কিনে দিতে পারি না। প্রথম আলো ট্রাস্টের কম্বলগুলো ওদের শীতের কষ্ট অনেকটা দূর করবে।’

কম্বল বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন মাজার শরিফ মহিলা কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ ইমাম হোসেন, মুফতি তরিকুল ইসলাম, থানা মসজিদের পেশ ইমাম মতিউর রহমান, ক্যাপ্টেন (অব.) মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম, মাওলানা আবদুল ওয়াহাব, আবদুল মোত্তালিব, জালাল উদ্দিন, কামরুজ্জামান, প্রথম আলোর নাটোর প্রতিনিধি মুক্তার হোসেন, বন্ধুসভার সহসভাপতি আবদুল হালিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ হান্নান প্রমুখ।