জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) আয়োজিত একটি সেমিনারকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে সহসভাপতি (ভিপি) ও সাধারণ সম্পাদকের (জিএস) অবস্থান ভিন্ন হওয়ায় বিষয়টি সামনে এসেছে।
জাকসুর ভিপি আবদুর রশিদের অভিযোগ, ‘গণভোট অস্বীকার ও অধ্যাদেশ বাতিলের রাজনীতি: সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রে প্রবেশ এবং সংকটের পথে দেশ’ শীর্ষক সেমিনার আয়োজনের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সভা হয়নি।
আজ বুধবার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে জাকসু ভিপি আবদুর রশিদ বলেন, বিষয়বস্তু নির্ধারণ, অতিথি নির্বাচন, বাজেট ও সময়সূচি—কোনো ক্ষেত্রেই জাকসুর সদস্যদের সঙ্গে ন্যূনতম আলোচনা করা হয়নি। এমনকি তাঁকে ও সভাপতিকেও আগাম জানানো হয়নি।
আবদুর রশিদের ভাষ্য, জাকসুর মতো একটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হলে সব সদস্যের অংশগ্রহণ জরুরি। কিন্তু এখানে প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া উপেক্ষা করা হয়েছে, যা সংগঠনের গণতান্ত্রিক চর্চাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। জাকসুর ব্যানারে কোনো আয়োজন করতে হলে গঠনতন্ত্র মেনে সভার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অন্যথায় নিজ নিজ দলীয় ব্যানারে আয়োজন করা যেতে পারে।
তবে ভিপির অভিযোগটি নাকচ করেছেন জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম। তাঁর দাবি, সেমিনারের বিষয়ে আগেই ভিপিকে জানানো হয়েছিল এবং তিনি প্রাথমিক সম্মতিও দিয়েছিলেন।
জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, খসড়া চূড়ান্ত হওয়ার পর ভিপির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের বক্তাদের আমন্ত্রণ জানানো হলেও বিএনপিপন্থী বক্তারা এতে অংশ নেননি।
একই সুরে কথা বলেছেন জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আহসান লাবিব। তিনি জানান, ভিপির সঙ্গে আলোচনা করেই প্রাথমিকভাবে সেমিনারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সভাপতিত্বের প্রস্তাব দেওয়া হলেও ভিপি তা গ্রহণ করেননি এবং জিএসের সঙ্গে আলোচনা করে এগোতে বলেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনায় গণতান্ত্রিক আলোচনা ছাত্র সংসদের দায়িত্ব উল্লেখ করে আহসান লাবিব আরও বলেন, বিভিন্ন দল ও মতের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে কেউ অংশ না নিলে আয়োজন বন্ধ রাখা যায় না। কোনো ভুল–বোঝাবুঝি থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এবি পার্টির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবু হেনা রাজ্জাকি, ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম, এনসিপির নেতা সাঈফ মোস্তাফিজ ও মনিরা শারমিন, জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম, জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান ও বিতার্কিক জাহিদুল ইসলামের এতে আলোচক হিসেবে থাকার কথা রয়েছে।