চট্টগ্রাম -১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে চার প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। নগরের লাভ লেইন এলাকায় আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে
চট্টগ্রাম -১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে চার প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। নগরের লাভ লেইন এলাকায় আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে

চট্টগ্রাম–১১ আসন

সিটি করপোরেশনের পাওনা দেননি, প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল

চট্টগ্রাম–১১ (বন্দর, ইপিজেড ও পতেঙ্গা) আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ আট প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তবে বিএনপির এক স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ চারজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স ফি পরিশোধ না করায়।

আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম–১১ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাই অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রার্থী বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়। এই আসনে ১২ প্রার্থী তাঁদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তবে মনোনয়নপত্র নিয়েছিলেন ২৩ প্রার্থী।

যাচাইয়ের পর স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. নূর উদ্দিন, গণ অধিকার পরিষদের মুহম্মদ নেজাম উদ্দীন ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) এ কে এম আবু তাহেরের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

প্রার্থীদের মধ্যে গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মুহম্মদ নেজাম উদ্দিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে সিটি করপোরেশনের পাওনা ৯৭ হাজার ১৭৫ টাকা পরিশোধ না করার কারণে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ১ শতাংশ ভোটারের নাম ও সই জমা দিতে হয়। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ভূঁইয়ার জমা দেওয়া ভোটারের মধ্যে দৈবচয়নের ভিত্তিতে নেওয়া পাঁচজনকে পাওয়া যায়নি।

মো. নূর উদ্দিন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও দলীয় মনোনয়নে তাঁর নাম, আসন নম্বর ও ভোটার নম্বর ছিল না। তাই বাতিল করা হয়। আর বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও ঋণখেলাপির কারণে এ কে এম আবু তাহেরের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

জানতে চাইলে গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী ও দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক মুহম্মদ নেজাম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ২০২৪ সালে তাঁরা কয়েকজন যৌথভাবে কনস্ট্রাকশন কোম্পানির জন্য ট্রেড লাইসেন্স নিয়েছিলেন। তবে কোনো ধরনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম করেননি। পরে কোম্পানিও বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এরপরও সিটি করপোরেশন দাবি করেছে, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন না করার কারণে তারা ফি পাবে। এ কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তবে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করবেন।

বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ছাড়া মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ শফিউল আলম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্ক্সবাদী) দীপা মজুমদার, জাতীয় পার্টির আবু তাহের, গণফোরামের উজ্জ্বল ভৌমিক, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ আবু তাহের, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের মো. নিজামুল হক আল কাদেরী ও ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. আজিজ মিয়া।

চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ১৫টি আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা হচ্ছেন বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। অন্য আসনটিতে রয়েছেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। মনোনয়নপত্র বাছাই চলবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে পরদিন ২১ জানুয়ারি। ২২ জানুয়ারি প্রচারণা শুরু করতে পারবেন প্রার্থীরা; চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত।

এবারের নির্বাচনে তিন রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন ২৩১ জন। তবে শেষ পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ১৪৩ জন। সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ১২টি করে মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে চট্টগ্রাম–৯ (কোতোয়ালি–বাকলিয়া) ও চট্টগ্রাম–১১ (বন্দর, ইপিজেড ও পতেঙ্গা) আসনে। সবচেয়ে কম অর্থাৎ তিনটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে চট্টগ্রাম–১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া) আসনে।