
খুলনার নিউমার্কেটের পাশে অবস্থিত বায়তুন নূর শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার রাত ১১টার দিকে শপিং সেন্টারের একটি মোবাইলের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।
ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিটের চেষ্টায় দিবাগত রাত সোয়া একটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনে মোবাইলের দোকানসহ ১০ থেকে ১২টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, রাত ১১টার দিকে শপিং সেন্টারের ‘গোধূলি’ নামের একটি মোবাইলের দোকান থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। বিষয়টি স্থানীয় লোকজন নিরাপত্তাকর্মীকে জানান। ভেতরে ঢুকলে আগুনের শিখা দেখা যায় এবং মুহূর্তেই আগুন মার্কেটের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হলে তারা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, মার্কেটের বিদ্যুৎ–ব্যবস্থা ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। তারগুলো ছিল বিশৃঙ্খলভাবে ছড়ানো–ছিটানো, যা আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়িয়েছে। এ ছাড়া শপিং সেন্টারের ভেতরেই বেশ কয়েকটি এসির আউটডোর ইউনিট স্থাপন করা ছিল, যা আগুনের তীব্রতা বাড়াতে দাহ্য উপাদান হিসেবে কাজ করেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
শপিং কমপ্লেক্সের এক ব্যবসায়ী আসফিক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, শপিং সেন্টারের মাঝামাঝি অংশে অবস্থিত ‘গোধূলি’ দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে চারটি ফায়ার এক্সটিংগুইশার ব্যবহার করে নেভানোর চেষ্টা করা হয়, তবে তা সফল হয়নি। অগোছালো বৈদ্যুতিক তারের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ভেতরে একটি এসি বিস্ফোরিত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
খুলনা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক আবদুল মালেক বলেন, নিউমার্কেটের পাশে বায়তুন নূর শপিং সেন্টারের মোবাইল মার্কেটে আগুন লাগে। সংবাদ পেয়ে ছয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুনের সূত্রপাত। মার্কেটের ভেতরে বিদ্যুতের অনেক তার ছড়িয়ে–ছিটিয়ে ছিল, সেখান থেকেই আগুন লাগতে পারে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।