
কুতুবদিয়া চ্যানেলের মাঝখানের সাগরের স্রোতে ভেসে যাচ্ছিল কিছু একটা। দেখে মনে হচ্ছিল, মানুষের মাথা। দূর থেকে সেটি দেখতে পেয়েছিলেন একটি যাত্রীবাহী নৌকার যাত্রীরা। ইঞ্জিনচালিত ওই নৌকা কাছাকাছি হতেই যাত্রীরা দেখতে পেলেন, কোনো মানুষ নয়, স্রোতের টানে ভেসে যেতে যেতে বাঁচার চেষ্টা করছে একটি কুকুর। প্রাণীটি কোনো রকমে পানির ওপর মাথা তুলে রেখেছে। নৌকার যাত্রীদের অনুরোধে সাগরে ভেসে যাওয়া কুকুরটিকে উদ্ধারের জন্য মাঝি নৌকা থামান। উদ্ধার করা হয় কুকুরটি।
গতকাল বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। যাত্রীরা জানান, কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার উত্তর ধুরুন ঘাট থেকে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর ছনুয়াঘাট যাচ্ছিল নৌকাটি। বেলা আড়াইটার দিকে মিজবাউল আলম নামের এক যাত্রী প্রথম কুকুরটিকে দেখতে পান। তিনি বিষয়টি অন্য যাত্রীদের জানান। এরপর নৌকা থামিয়ে কুকুরটিকে তুলে নিতে চালককে বাধ্য করেন যাত্রীরা।
মামুনুল ইসলাম কুতুবী নামের এক যাত্রী বলেন, যাত্রীদের দাবির মুখে মাঝি নৌকা থামালে পানিতে রশি ফেলা হয়। দুই যাত্রী দুই দিক থেকে রশি ধরে কুকুরটির কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। তখন অনেক স্রোত ছিল। কয়েকবার এদিক-ওদিক ভেসে যাওয়ার পর অবশেষে রশির নাগালে আসে কুকুরটি। এরপর দুই যাত্রী মিলে শক্ত করে ধরে টেনে তোলেন কুকুরটিকে। মুহূর্তেই পানির বুক থেকে নৌকার ওপর উঠে এল কুকুরটি। দীর্ঘ সময় পানিতে ভাসলেও তার মাথাটি ছিল শুকনা। মামুনুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথমে আমরা মানুষের মাথা মনে করেছিলাম। কাছে গিয়ে বুঝলাম, কুকুর। আমরা মূলত একটা প্রাণ বাঁচিয়েছি।’
উদ্ধারের পর কুকুরটিকে নৌকাতেই রাখা হয়। পরে বাঁশখালীর ছনুয়াঘাটে পৌঁছে সেটিকে নামিয়ে দেওয়া হয়। নৌকার চালক জহির উদ্দিন বলেন, ‘ওটা যদি মানুষ হতো, তখন তো সবাই দৌড়াতাম। চিন্তা করলাম, কুকুরও তো একটা প্রাণী। তাই সেটিকে উদ্ধার করেছি আমরা।’