দুটি গ্রামের লোকজনের কাছ থকে প্রায় দেড় কোটি টাকা একটি প্রতারক চক্র হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় মোবাইল ফোনে অর্থ আয়ের লোভ দেখিয়ে নিজপাড়া ও বাগিচাপুর নামের দুটি গ্রামের দুই শতাধিক পরিবারের লোকজনের কাছ থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা একটি প্রতারক চক্র হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতারক চক্রটির ফাঁদে পড়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে সম্প্রতি নালিতাবাড়ী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগীরা।
উপজেলা বাগিচাপুর গ্রামের ভুক্তভোগী এরশাদ আলী (৪৮) বলেন, ‘মোটরসাইকেল বিক্রি করে ফোনে টাকা ভরছিলাম। ১৪ দিন টাকাও পাইছি। কিন্তু এরপর থেকেই তো সব হাওয়া। এহন আমি আমার টাকা ফেরত চাই। টাকা ফেরত পাইতে থানায় লিখিত অভিযোগ করছি।’
একই গ্রামের মেহেদি হাসান বলেন, ‘আমি এক লাখ টাকা মোবাইল ফোনে ভরেছি। এখন ওই ওয়েবসাইট বন্ধ। বিপদের মধ্যে আছি।’
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার বাগিচাপুর গ্রামের হুমায়ুন মান্নান (২৪), জুনায়েত হোসেন (২৬), সোহাগ মিয়া (২৪), মোবাশ্বের হোসেন (২২) মিলে গ্রামবাসীকে ‘অরোরা’ নামের ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খোলার কথা বলেন। কমপক্ষে ১০০ ডলার সমপরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করে মুঠোফোনে অরোরা অ্যাপ চালু করলে ৪৫০ টাকা লাভ পাওয়ার কথা জানানো হয়। পরে বিকাশের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগে প্রতিদিন ২ হাজার ২৫০ টাকা এবং এক লাখ টাকা বিনিয়োগে প্রতিদিন ৫ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত মুনাফা পাওয়ার কথা জানানো হয়। তাঁদের কথামতো লাভের আশায় কেউ গরু, ছাগল ও মোটরসাইকেল বিক্রি করে, আবার কেউ ঋণ করে অরোরা ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খোলেন এবং অতিরিক্ত লাভের আশায় যে যাঁর সাধ্যমতো টাকা বিনিয়োগ করেন। তিন মাস ঠিকঠাক চলার পর সম্প্রতি ওয়েবসাইটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় টাকা নিয়ে সবাই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে হুমায়ুন মান্নানের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। তবে অভিযুক্ত জুনায়েত হোসেনের বড় ভাই জুবায়ের হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, সবাই লাভের আশায় ওয়েবসাইটে টাকা বিনিয়োগ করেন। এখানে কাউকে দোষারোপ করে কোনো লাভ নেই। যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাঁরা সবাই এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন।
নিজপাড়া গ্রামের ইব্রাহীম মিয়া বলেন, ‘ঘর দিমু বইলা ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা জমাইছিলাম। কিন্তু লাভের আশায় ওই শেষ সম্বলটুকুও ফোনে ভইরা অহন সব হারাইছি। এগর কি কোনো বিচার নাই। অহন পরিবার লইয়া খুব কষ্টে আছি।’
রূপনারায়ণ কুড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল-আল-মামুন বলেন, দুই শতাধিক পরিবারের লোকজন অরোরা নামের একটি ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুলে দেড় কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন বলে তিনি শুনেছেন।
নালিতাবাড়ী থানার ওসি এমদাদুল হক বলেন, ‘অ্যাপের মাধ্যমে একটি প্রতারক চক্র মানুষের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি আমরা খতিয়ে দেখছি। চক্রকে চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’