গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তার

পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, ধর্ষণের অভিযোগে মুদিদোকানি গ্রেপ্তার

নাটোরে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে (১২) দিনের পর দিন ধর্ষণের অভিযোগে এক মুদিদোকানিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার ওসমান আলী (৫৬) নামের ওই দোকানিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাঁকে রিমান্ডে নিতে আবেদন জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে গত মঙ্গলবার বিকেলে ওই স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে নাটোর সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন। ওই দিন রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার আসামি ওসমান আলীকে গ্রেপ্তার করে।

সদর থানা সূত্রে জানা যায়, দরিদ্র পরিবারের ওই ছাত্রীর মা-বাবা দুজনেই কর্মজীবী। তাঁদের ব্যস্ততার কারণে মেয়েটি একাই বিদ্যালয়ে যাতায়াত করত। হঠাৎ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা মেয়েটির শারীরিক কিছু পরিবর্তন লক্ষ করেন। বিষয়টি তিনি মেয়েটির মাকে জানান। মা মেয়েকে গত মঙ্গলবার স্থানীয় মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানকার চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, মেয়েটি আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

পরে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মেয়েটি জানায়, বিদ্যালয়ের পথের ধারের মুদিদোকানি ওসমান আলী তাকে কেক-বিস্কুট-চকলেট খাওয়ানোর প্রলোভন দিয়ে প্রায় এক বছর ধরে মেলামেশা করে আসছে। এরপর মঙ্গলবার বিকেলে মেয়েটির বাবা ঘটনাটি সদর থানায় জানিয়ে ওসমান আলীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ রাতেই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।

বুধবার ঘটনাটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জানার পর বিদ্যালয় চত্বরে অভিযুক্ত দোকানির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন।

মেয়েটির বাবা বলেন, ‘আমরা সবাই অশিক্ষিত। ভেবেছিলাম মেয়েকে শিক্ষিত করে অবস্থার পরিবর্তন করব। কিন্তু মেয়েটির যা অবস্থা, তাতে পড়ালেখা তো দূরের কথা, জীবন বাঁচানোই দায়। আমি এ ঘটনার উচিত বিচার চাই।’

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনসুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাওয়া মাত্র আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়। আজ বৃহস্পতিবার তাঁকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। এ ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে যা যা করার, পুলিশ তা-ই করবে।