
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার রাজুরকান্দি গ্রামের প্রবাসী লিটন মিয়ার (৩০) পরিবারে মাতম চলছে। স্বজনদের আহাজারি ও আর্তনাদ থামছেই না। তাঁকে (লিটন) শেষবারের মতো একনজর দেখার জন্য উদ্গ্রীব হয়ে আছেন স্বজনেরা। লাশের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন তাঁরা।
ওমরাহ পালন শেষে গত শনিবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ছয়টায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন লিটন মিয়া। তিনি উপজেলার গজরা ইউনিয়নের রাজুরকান্দি গ্রামের চাঁন মিয়া সরকারের ছেলে। চার ভাইবোনের মধ্যে লিটন বড়। তিনি সৌদি আরবের একটি বেসরকারি কোম্পানির কর্মী ছিলেন। লিটন তাঁর পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, লিটন মিয়া দরিদ্র পরিবারের সন্তান। পরিবারের সচ্ছলতা আনতে ছয় বছর আগে জমিজমা বিক্রি করে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। সেখানকার দাম্মাম আল জুবায়েল শহরে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন তিনি। সচ্ছলতার মুখও দেখতে শুরু করে পরিবারটি। শনিবার ওমরাহ পালন করতে মক্কায় যান তিনি। ওই দিন সন্ধ্যা ছয়টায় ভাড়া করা বাসে বাসায় ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। এতে তাঁর মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশ গুরুতর জখম হয় এবং ঘটনাস্থলে মারা যান তিনি।
কান্নাভেজা কণ্ঠে লিটন মিয়ার বাবা চাঁন মিয়া সরকার বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় সৌদি আরবে অবস্থানকারী তাঁর ছেলের এক বন্ধুর মাধ্যমে মুঠোফোনে জানতে পারেন, তাঁর ছেলে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। এত অল্প বয়সে ছেলেটা মারা যাবে, তা স্বপ্নেও ভাবেননি। ছেলের পাঠানো টাকায় পুরো সংসারের খরচ চলত। এখন সংসারের খরচ কে দেবে? কর্জের টাকাও কীভাবে শোধ দেবেন? শুধু এটুকুই জানেন, তাঁদের সামনে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ ও অন্ধকার।
লিটনের মা নিলুফা বেগম আহাজারি করে বলেন, ‘আমার ছেলেডা বড়ই ভালা ছিল। দুই দিন আগেও ছেলেডা আমারে ফোনে কইল, ওমরাহ করতে যাইব। ফিরা বাড়িতে টেয়া পাডাইব। ঈদের খরচপাতি দিব। এহন আমার সব শেষ। বুকটা খালি কইরা ছেলেডা চইলা গেল। এই কষ্টের কথা কেমনে কমু, কারে বুঝামু। আমার বুকের ধনডা এত কম বয়সে আমারে ফাঁকি দিয়া চইলা যাইব হেউডা ভাবি নাই। তয় ছেলেডার মুখটা শেষবারের মতো একবার দেখতে চাই। ওর লাশটা যদি সরকার একটু আমার সামনে আইনা দিত-হেই অপেক্ষায় আছি।’
স্থানীয় গজরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শহীদ উল্লাহ প্রধান বলেন, মৃত্যুর পর লিটনের লাশ সৌদি আরবের একটি সরকারি হাসপাতালের হিমঘরে রাখা আছে। তাঁর লাশ দেশে আনার চেষ্টা চলছে। যোগাযোগ করা হচ্ছে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গেও।