
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পাবনা জেলার সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক ও সংগীতশিল্পী প্রলয় চাকী (৬০) কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গতকাল রোববার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের দাবি, তিনি হৃদ্রোগ ও ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। কারাগারে যথাযথ চিকিৎসার অভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর পাবনা শহরের দিলালপুর মহল্লার নিজ বাড়ি থেকে প্রলয় চাকী আটক হন। পরে তাঁকে একটি বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
জেলা কারাগার সূত্রে জানা গেছে, প্রলয় চাকী গত শুক্রবার সকালে কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
প্রলয় চাকীর ছেলে সনি চাকীর অভিযোগ, তাঁর বাবার বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল না। তাঁকে হয়রানি করা হয়েছে। কারাগারে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও প্রথমে তাঁদের জানানো হয়নি। কারাগারে যথাযথ চিকিৎসার অভাবে তিনি মারা গেছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেল সুপার ওমর ফারুক। তিনি বলেন, প্রলয় চাকী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। চিকিৎসাপত্র অনুযায়ী তাঁকে নিয়মিত ওষুধ দেওয়া হতো। গুরুতর অসুস্থ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রলয় চাকী নব্বই দশকের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও সংগীত পরিচালক ছিলেন। তিনি পাবনার বনমালী শিল্পকলা কেন্দ্রে নিয়মিত সংগীত পরিচালনা করছিলেন। বনমালী শিল্পকলা কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, ‘প্রলয় চাকী রাজনীতির বাইরে একজন নিবেদিতপ্রাণ সাংস্কৃতিক কর্মী ও শিল্পী ছিলেন। তাঁর এই মৃত্যুতে আমরা শোকাহত।’
পাবনা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সম্পাদক ভাস্কর চৌধুরী বলেন, ‘তিনি এভাবে মারা যাবেন সেটা আমরা মেনে নিতে পারছি না। এই মৃত্যু সত্যি কষ্টকর।’