রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীসহ তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনায় বাসচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের বিরুদ্ধে গুজব ছড়িয়ে একজন উপপরিদর্শক (এসআই) ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অবরুদ্ধ করে শারীরিকভাবে হেনস্তার অভিযোগে পৃথক মামলায় বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) গাজিউর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীর নাম হাসানুর রহমান (২৬)। তিনি রাজশাহী মহানগরীর শাহমখদুম থানার বড় বনগ্রাম চকপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থী তাঁর সহপাঠী ছিলেন। গ্রেপ্তার বাসচালক সাইফুল ইসলাম (৪৮) নাটোর সদর উপজেলার কানাইখালী গ্রামের দক্ষিণ পটুয়াপাড়ার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার পর বাসচালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর ফেসবুকে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে পুলিশ চালককে ছেড়ে দিয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। গুজবের জেরে উত্তেজিত ছাত্র-জনতা বেলপুকুর থানার এসআই জহিরুল ইসলামকে একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ সময় থানার ওসিকেও সেখানে আটকে রাখা হয়। একপর্যায়ে এসআইকে কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করা হয় এবং সেই ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং রাত সাড়ে আটটার দিকে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা হয়।
এর আগে গত রোববার বিকেলে রাজশাহী মহানগরীর বেলপুকুর থানা এলাকায় ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী রাজকীয় পরিবহনের একটি বাস পুঠিয়াগামী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী শান্ত ইসলাম (২৩) নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় আরও দুজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। নিহত অন্য দুজন নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার এনামুল হক (৪৫) ও রাজশাহী নগরের কর্ণহার থানার সুমাইয়া আক্তার (৩০)।
এ ঘটনায় বেলপুকুর থানায় সড়ক পরিবহন আইনে একটি মামলা এবং সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগে পৃথক আরেকটি মামলা করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, পুলিশ সদস্যদের হেনস্তা ও গুজব ছড়ানোর ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে একাধিক দল কাজ শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল সোমবার বিকেলে হাসানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে গতকাল আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে গতকাল বিকেলে কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর থানা এলাকা থেকে রাজকীয় পরিবহনের বাসচালক সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার চালককে আজ আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে দুর্ঘটনার দিন রাতেই বাসটি জব্দ করা হয়।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) গাজিউর রহমান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।