গোবিন্দগঞ্জে সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম এলাকায় সাঁওতালদের সমাবেশে হামলা হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে
গোবিন্দগঞ্জে সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম এলাকায় সাঁওতালদের সমাবেশে হামলা হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে

গাইবান্ধায় সাঁওতালদের সমাবেশে হামলা, আহত ৫

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম এলাকায় সাঁওতালদের সমাবেশে হামলা হয়েছে। এতে অন্তত পাঁচ সাঁওতাল নেতা আহত হয়েছেন। আজ রোববার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

তিন সাঁওতাল হত্যার বিচার এবং জমি ফেরতের দাবিতে সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি ওই সমাবেশের আয়োজন করে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজ দুপুরে তিন সাঁওতাল হত্যার বিচার এবং সদ্য পাস হওয়া ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা আইন ২০২৬ অনুযায়ী বাপ-দাদার জমি ফেরতের দাবিতে সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম এলাকায় গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর সড়কে সমাবেশ শুরু হয়। আধা ঘণ্টা সমাবেশ চলার পর বেলা একটার দিকে কয়েকজন লাঠি নিয়ে সমাবেশে হামলা চালান।

হামলায় সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাস্কে, সাধারণ সম্পাদক বিটিশ সরেন, সদস্য শিউলী মার্ডি, লুকাস মুরমু এবং রিপন বেশরা আহত হন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে শিউলী মার্ডি ও লুকাস মুরমু মাথা ও হাতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। অন্যরা মারপিটের শিকার হলেও জখম হননি।

ফিলিমন বাস্কে অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পণ্ড করা হয়েছে। সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম এলাকার ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির একাংশের নেতা স্বপন শেখ, সাবু ও জাফরুলের নেতৃত্বে একটি দল হামলা চালিয়েছেন। তিনি ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বরে তিন সাঁওতালকে হত্যার বিচার এবং সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম এলাকার জমি প্রকৃত মালিকদের ফেরত দেওয়ার দাবি জানান। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

এসব বিষয়ে অভিযুক্ত ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির একাংশের নেতা স্বপন শেখের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অন্য দুজনের ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।

এসব বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) পবিত্র কুমার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি গঠন নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’