ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদর উপজেলার একাংশ) আসনে মুখোমুখি দুই ‘ভূঁইয়া’। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর দুই প্রার্থীরই পদবি ‘ভূঁইয়া’। ফলে স্থানীয় রাজনীতিতে বিষয়টি ‘দুই ভূঁইয়ার লড়াই’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের আমির রুহুল আমিন ভূঁইয়া। এ ছাড়া আরও পাঁচজন প্রার্থী রয়েছেন এ আসনে।
স্থানীয় কয়েকজন ভোটার জানান, দুই দলের পরিচিত ও প্রভাবশালী দুই প্রার্থীর মুখোমুখি লড়াইয়ে এবারের নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। প্রার্থীদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক শক্তিই শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তাঁরা।
এদিকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকা ফেস্টুন ও ব্যানারে ছেয়ে গেছে। পথসভায় সরব হয়ে উঠছেন উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীরা। ফলে লক্ষ্মীপুর-২ আসনটি এবারের নির্বাচনে বিশেষ নজর কাড়ছে।
আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, ‘আমি জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসা নিয়েই রাজনীতি করি। রায়পুর ও সদর অংশের মানুষ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে, তাঁদের জন্যই আমি কাজ করতে চাই। এই আসন বিএনপির ঘাঁটি, তৃণমূলের ঐক্য ও জনগণের সমর্থন থাকলে আমরা অবশ্যই জয়ী হব।’
আবুল খায়ের ভূঁইয়া আরও বলেন, ‘নির্বাচন আমাদের জন্য শুধু ভোটের লড়াই নয়—এটা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম। আমি চাই, মানুষ যেন মুক্তভাবে ভোট দিতে পারে। জনগণের রায়ের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল থাকব।’
একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জেলা আমির রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা জনগণের কল্যাণে ন্যায়ভিত্তিক রাজনীতি করতে চাই। রাজনীতির লক্ষ্য কখনো ক্ষমতা নয়, মানুষের সেবা ও সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।’
রুহুল আমিন ভূঁইয়া আরও বলেন, ‘লক্ষ্মীপুর-২ আসনে জামায়াতের সংগঠন খুবই শক্তিশালী। তরুণ প্রজন্ম আমাদের পাশে আছে। জনগণের দোয়া ও সহযোগিতা পেলে আমরা শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে পরিবর্তনের ধারা শুরু করতে পারব।’
পাঁচজন নতুন ভোটার জানান, তাঁরা এবার প্রথমবারের মতো ভোট দিচ্ছেন। প্রার্থীদের নিয়ে কৌতূহল ও আগ্রহ দুটোই কাজ করছে। রায়পুর শহরের কলেজছাত্রী তানজিলা ইসলাম বলেন, ‘আমরা চাই এমন একজন প্রতিনিধি, যিনি এলাকায় শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করবেন। যোগ্য মানুষকেই সবাই দেখতে চায়।’
রায়পুরের তরুণ ব্যবসায়ী নাজমুল আহসান বলেন, ‘দুই ভূঁইয়াই পরিচিত মুখ। আমরা তাঁদের কাজ দেখে সিদ্ধান্ত নেব। জনগণের সঙ্গে যিনি থাকবেন, ভোটও তাঁর পক্ষে যাবে।’