উদ্ধার হওয়া এক দিন বয়সী নবজাতকসহ মা–বাবা। বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায়
উদ্ধার হওয়া এক দিন বয়সী নবজাতকসহ মা–বাবা। বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায়

প্লাস্টিকের ব্যাগে করে নবজাতককে শীতলক্ষ্যায় ফেলার চেষ্টা, এলাকাবাসীর তৎপরতায় উদ্ধার

এক দিন বয়সী নবজাতককে প্লাস্টিকের ব্যাগে মুড়িয়ে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এক মা। তবে স্থানীয় লোকজনের তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত জীবিত উদ্ধার হয়েছে শিশুটি। পরে পুলিশ ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপে মুচলেকা নিয়ে নবজাতকটিকে আবারও পরিবারের কাছেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার বক্তারকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নবজাতকের মা রাহেলা বেগম ও তাঁর স্বামী আবদুল মালেক রংপুর জেলার পীরগাছা থানার পঞ্চনন গ্রামে বাড়ি। বর্তমানে তারা বন্দর উপজেলার বক্তারকান্দি এলাকায় বসবাস করেন। দুর্ঘটনায় এক পা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে আবদুল হক ব্যাটারিচালিত রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। এই দম্পতির আরও তিন সন্তান রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল সাতটার দিকে বক্তারকান্দি এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে মা রাহেলা বেগম এক দিনের নবজাতককে একটি প্লাস্টিকে মুড়িয়ে ফেলে দেওয়ার সময় আশপাশের লোকজন দেখে ফেলেন। ব্যাগের ভেতরে নড়াচড়া করতে দেখে তাঁরা ওই ব্যাগটি তুলে নবজাতক কন্যাশিশুকে দেখতে পান। পরে তাঁরা বন্দর থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে শিশুকে উদ্ধার ও তার মা রাহেলা বেগমকে থানায় নিয়ে আসে। পরে নবজাতককে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোক্তার আশরাফ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, অভাবের তাড়নায় ওই নারী তাঁর এক দিনের নবজাতক সন্তানকে প্লাস্টিকের ভেতরে মুড়িয়ে ফেলে দেওয়ার সময় লোকজন পুলিশে খবর দিলে নবজাতকসহ ওই নারীকে থানায় নিয়ে আসে। নবজাতকটি সুস্থ আছে। পরে সমাজসেবা কর্মকর্তাকে খবর দেওয়া হলে মুচলেকা নিয়ে নবজাতককে ওই দম্পতির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ওসি আরও জানান, ওই দম্পতির আরও তিনটি সন্তান রয়েছে। এখন নতুন করে নবজাতক আসায় ঝামেলা মনে করে নবজাতককে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। এক ছেলে ১০ বছর, মেয়ে ৬ বছর ও ছোট ছেলে আড়াই বছর।

নবজাতকের বাবা আবদুল মালেক প্রথম আলোকে বলেন, তার স্ত্রী মানসিকভাবে অসুস্থ। তার মা সংসার বড় হলে খরচ বাড়বে। এ কারণে বাচ্চা না নেওয়ার জন্য বলেছিল। কিন্তু তাঁর স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা হলে বিষয়টি গোপন রাখেন। বাচ্চা প্রসব হলে তাঁকে না জানিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁরা নিজেরাই বাচ্চাটিকে লালনপালন করতে চান বলে জানান।

তিনি আরও জানান, ২০১১ সালে সড়ক দুর্ঘটনা হলে অস্ত্রোপচারের পর থেকে তাঁর বাঁ পা চিকন হয়ে যায়। পরে লাঠিতে ভর দিয়ে চলতে হয়। এভাবে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহী করে আসছিলেন।

এ বিষয়ে বন্দর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. ফয়সাল কবির প্রথম আলোকে বলেন, শিশুটির মা মানসিকভাবে অসুস্থ। তাঁদের আর্থিক ও পারিবারিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে সতর্কতামূলক মুচলেকা দিয়ে শিশুটিকে পরিবারের কাছেই হস্তান্তর করা হয়েছে। শিশুর বাবা আবেদন করলে তাঁকে প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।