
নির্বাচন উপলক্ষে ঘোষিত বিশেষ ছুটিতে বাড়িতে যাচ্ছে কারখানার শ্রমিকেরা। তাঁরা আজ মঙ্গলবার সকালে একযোগে রওনা হওয়ায় গাজীপুরের ঢাকা–টাঙ্গাইল ও ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। কালিয়াকৈরের চন্দ্রা মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় ঘণ্টায় পর ঘণ্টা আটকে থেকে তাঁরা দুর্ভোগে পড়েছেন।
আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা, সফিপুর, মৌচাক ও কোনাবাড়ী এলাকায় বাস, ট্রাক, প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি সময় লাগছে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে। সন্ধ্যা পৌনে ৬টা পর্যন্ত একই অবস্থা বিরাজ করে। চন্দ্রা থেকে উভয় দিকে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট লেগে থাকে এবং যানবাহন থেমে থেমে চলতে দেখা যায়।
পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, পুলিশ সদস্যদের অনেকে নির্বাচনের দায়িত্বে আছেন। ফলে যানজট নিরসন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তারপরও পুলিশের স্বল্পসংখ্যক সদস্য দিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ সম্পর্কে কোনাবাড়ী নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, দীর্ঘ ছুটির সময় সাধারণত মহাসড়কে পুলিশের শত শত সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু এবার পুলিশের অনেক সদস্য নির্বাচনী দায়িত্বে ব্যস্ত আছেন। পুলিশের স্বল্পসংখ্যক সদস্য দিয়েই যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা চলছে।
আজ দুপুর ১২টায় চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় কথা হয় পোশাকশ্রমিক রফিকুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি মিরপুরের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। তিনি জানান, সকাল ৮টায় এলাকার কয়েকজনের সঙ্গে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে এসে সিরাজগঞ্জগামী একটি বাসে ওঠেন। সাধারণ সময়ে গাবতলী থেকে গাজীপুরের চন্দ্রা পৌঁছাতে যেখানে এক থেকে দেড় ঘণ্টা লাগে। সেখানে আজ যানবাহনের চাপ বাড়ায় প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা লেগে যায়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাসটি চন্দ্রা এলাকায় পৌঁছায়। জানালার পাশে বসে বিরক্ত মুখে রফিকুল বলেন, কারখানা থেকে ভোট দেওয়ার জন্য ছুটি পেয়েই সকালে রওনা হয়েছেন, কিন্তু এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছেন। কখন বাড়ি পৌঁছাবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
অন্যদিকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকা থেকেও সকাল সাড়ে নয়টার দিকে রাজশাহীগামী একটি বাসে ওঠেন গৃহকর্মী হাসিনা বেগম। স্বাভাবিক সময়ে কোনাবাড়ী থেকে চন্দ্রা যেতে যেখানে ১০-১৫ মিনিট লাগে। আজ সেখানে প্রায় দুই ঘণ্টা লেগে যায়। দুপুরের দিকে চন্দ্রা মোড়ে পৌঁছেই যানজটের মধ্যে পড়েন তিনি। হাসিনা বেগম বলেন, ভোট দেওয়ার জন্যই এত কষ্ট করে বাড়ি যাচ্ছেন, কিন্তু রাস্তার এই দীর্ঘ যানজটে ছোট বাচ্চা নিয়ে ভোগান্তি আরও বেড়ে গেছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা মোড় থেকে সফিপুর, মৌচাক ও কোনাবাড়ী এলাকা পর্যন্ত উভয় মহাসড়কে থেমে থেমে যানবাহন চলাচল করছে। কোথাও কোথাও যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কোনাবাড়ী, ভোগড়া ও জয়দেবপুর অভিমুখেও একই চিত্র দেখা গেছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত এ মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি।
এদিকে গাজীপুরের জয়দেবপুর জংশনে ঘরমুখী মানুষের ভিড় বেড়েছে। আজ সকাল থেকে স্টেশনে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। পর্যাপ্ত ট্রেন না থাকায় অনেক যাত্রীকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। যাত্রীরা জানান, সময়মতো ট্রেন না পাওয়া ও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।