লাশ উদ্ধারের পর বাড়ির সামনে লোকজনের ভিড়। বৃহস্পতিবার দুপুরে শরণখোলার রাজৈর গ্রামে
লাশ উদ্ধারের পর বাড়ির সামনে লোকজনের ভিড়। বৃহস্পতিবার দুপুরে শরণখোলার রাজৈর গ্রামে

বাগেরহাটে দম্পতির লাশ উদ্ধার, চিরকুটে লেখা, ‘আমাদেরকে মাফ করে দিও’

বাগেরহাটের শরণখোলায় শয়নকক্ষ থেকে স্বামী–স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার রাজৈর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। লাশ উদ্ধারের সময় ওই দম্পতির মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নন, স্বেচ্ছায় তাঁরা পৃথিবী থেকে চলে যাচ্ছেন—এমন একটি হাতে লেখা চিরকুট পেয়েছে পুলিশ।

ওই দুজন হলেন কবির হোসেন (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী হালিমা বেগম (২৮)। কবির হোসেন রাজৈর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় জেলে ছিলেন। হালিমার বাড়িও একই এলাকায়। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে। একজনের বয়স পাঁচ বছর, আরেকজনের দুই মাস। মা–বাবা হারানো দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। পারিবারিক কলহের জেরে এই ঘটনা ঘটতে পারে।

‘আল্লাহ আমাদেরকে মাফ করে দিও’ শিরোনামের চিরকুটে কবির হোসেনের নাম লেখা আছে। এতে তাঁদের মানসিক চাপের কথা উল্লেখ করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘরে খাটের ওপর দুজনের মরদেহ পাওয়া যায়। ওই ঘরে ও তাঁদের শরীরে কীটনাশকের গন্ধ ছিল।

শ্বশুরবাড়ি থেকে ছেলের টাকা পাওনা ছিল দাবি করে কবির হোসেনের বাবা আবদুল মজিদ বলেন, এই নিয়ে পীড়াপীড়ি-দ্বন্দ্ব থাকতই। ট্রলারে মাছ ধরার পাস বন্ধ। টাকাপয়সার কষ্ট ছিল। এই সব নিয়ে প্রায় সময় দ্বন্দ্ব চলত। গত রাতেও বাচ্চার খাতা আনা নিয়ে দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়।

উদ্ধার হওয়া চিরকুট। বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার রাজৈর গ্রামে

‘আমার মেয়েকে হত্যা করে হয়তো সে (কবির) আত্মহত্যা করেছে।’ বলে অভিযোগ করেন হালিমা বেগমের বাবা বাবুল হাওলাদার। তিনি বলেন, ‘১৩ তারিখ দুপুরে মেয়ে আমাকে ফোন করেছিল। তখন বলে, তাকে মারধর করছে। তখন আমি বাড়ি গিয়ে তাদের বুঝায় আসছি। তারা আমার কাছে কোনো টাকা পাবে না। মাঝে মাঝে টাকা চাইত।’

ময়নাতদন্তের জন্য ওই দম্পতির লাশ বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকেয়া খানম। তিনি বলেন, মৃত্যুর কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। কবির ও হালিমার মধ্যে এক সপ্তাহ ধরে ঝগড়া-বিবাদ চলছিল। হালিমার গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।