নীলফামারীর চিলাহাটি থেকে ঢাকা রুটে আগামী রোববার থেকে নতুন একটি আন্তনগর এক্সপ্রেস ট্রেন চালু হচ্ছে। ওই ট্রেনের নাম ‘নীলফামারী এক্সপ্রেস’ নামকরণ পুনর্বহাল ও ৮০ শতাংশ আসন বরাদ্দের দাবিতে ট্রেন অবরোধ করে মানববন্ধন ও সমাবেশ হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নীলফামারী রেলস্টেশনে ওই কর্মসূচি পালন করা হয়।
নীলফামারী রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে নীলফামারীবাসীর ব্যানারে দুপুর ১২টার দিকে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন হয়। পরে সেখানে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নীলফামারী সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আরিফা সুলতানা।
বক্তৃতা করেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মোর্শেদ আজম, জেলা ছাত্রসমাজের আহ্বায়ক মাহমুদ হাসান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেইফ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান রাসেল আমিন, নীলফামারী মডেল কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা, নীলফামারী পৌরসভার সংরক্ষিত কাউন্সিলর রত্না রানী রায় প্রমুখ। এ সময় রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী আন্তনগর তিতুমীর এক্সপ্রেস দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে নীলফামারী স্টেশনে পৌঁছালে আন্দোলনকারীরা ওই ট্রেন অবরোধ করেন। এ সময় তাঁরা স্লোগান দেন, ‘আমাদের দাবি একটাই—নীলফামারী এক্সপ্রেস চাই।’ পরে রেল কর্তৃপক্ষের অনুরোধে ১০ মিনিট পর ট্রেনটি ছেড়ে দেন আন্দোলনকারীরা।
২৯ মে ওই ট্রেনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল ‘নীলফামারী এক্সপ্রেস’। এক দিন পর ৩০ মে ওই ট্রেনের নাম পরিবর্তন করে নামকরণের প্রস্তাব দেওয়া হয় ‘চিলাহাটি এক্সপ্রেস’। এরপর নীলফামারী জেলাজুড়ে শুরু হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড়। নাম পরিবর্তনের প্রতিবাদে ও ‘নীলফামারী এক্সপ্রেস’ নামকরণ পুনর্বহালের দাবিতে বুধবার দুপুরে নীলফামারীতে মানববন্ধন ও সমাবেশ হয়। সমাবেশ শেষে দাবিসংবলিত প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বক্তারা বলেন, ২৯ মে বাংলাদেশ পশ্চিমাঞ্চল রেলের চিপ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ স্বাক্ষরিত পত্রে ওই ট্রেনের নাম প্রস্তাব করা হয় ‘নীলফামারী এক্সপ্রেস’। ৩০ মে রেলপথ মন্ত্রণালয় ‘চিলাহাটি এক্সপ্রেস’ নাম চূড়ান্ত করে রেলওয়ে দপ্তরকে চিঠি দেয়। নীলফামারীবাসী এর তীব্র প্রতিবাদ জানান। প্রস্তাবিত নাম অনুযায়ী তাঁরা তাঁদের জেলার নামে ওই ট্রেনের নামকরণ চান।
নীলফামারী স্টেশনমাস্টার মো. ওবাইদুল ইসলাম বলেন, ট্রেনের নামকরণ ‘নীলফামারী এক্সপ্রেস’ করার দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে নীলফামারীবাসীর ব্যানারে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে মানববন্ধন সমাবেশ করেন আন্দোলনকারীরা। পরে রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা আন্তনগর তিতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেনটি দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে স্টেশনে প্রবেশ করলে আন্দোলনকারীরা ওই ট্রেনের সামনে ব্যানার ফেস্টুন হাতে দাঁড়িয়ে অবরোধ করেন। পরে তাঁদের অবরোধ তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানালে তাঁরা অবরোধ তুলে নেন। ১০ মিনিট বিলম্বে ট্রেনটিকে চিলাহাটির উদ্দেশে ছেড়ে দেওয়া সম্ভব হয়।
বক্তারা ওই ট্রেনে নীলফামারী জেলাবাসীর জন্য ৮০ শতাংশ আসন বরাদ্দেরও দাবি জানান।
আগামী রোববার সকাল ১০টায় গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি ট্রেনটির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সময়ে চিলাহাটি রেলস্টেশন চত্বরে উদ্বোধন অনুষ্ঠান হবে।
ওই ট্রেন চালুর বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুযায়ী চিলাহাটি-ঢাকা রেলপথে নতুন একটি দিবাকালীন আন্তনগর ট্রেন চলাচল করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে রেলওয়ে। ইতিমধ্যে ট্রেনটির ট্রায়াল শেষ করা হয়েছে। আগামী ৪ জুন সকালে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর চিলাহাটি থেকে ঢাকার পথে ছাড়বে ট্রেনটি।
এ ট্রেন সপ্তাহের শনিবার বাদে ছয় দিন নিয়মিত চলাচল করবে। ট্রেনটি চিলাহাটি থেকে সকাল ছয়টায় ছেড়ে ঢাকায় পৌঁছাবে বেলা ৩টা ১০ মিনিটে। ঢাকা থেকে বিকেল সোয়া চারটায় ছেড়ে চিলাহাটি পৌঁছাবে রাত পৌনে দুইটায়। চায়না থেকে নতুন আমদানি করা ওই ট্রেনের আসনসংখ্যা ৭৯২। চিলাহাটির পর বিরতি রয়েছে ডোমার, নীলফামারী, সৈয়দপুর, পার্বতীপুর, জয়পুরহাট, সান্তাহার, ঈশ্বরদী বাইপাস ও বিমানবন্দর স্টেশনে।
নতুন ওই ট্রেন চালুর ব্যাপারে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুযায়ী চিলাহাটি-ঢাকা রেলপথে নতুন দিবাকালীন আন্তনগর ট্রেন চলাচল শুরু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।