ফরিদপুরে ভাঙ্গায় এক নারীকে স্ত্রী দাবি করে দুই ভাইয়ের মারামারি করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে
ফরিদপুরে ভাঙ্গায় এক নারীকে স্ত্রী দাবি করে দুই ভাইয়ের মারামারি করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে

এক নারীকে স্ত্রী দাবি করে দুই ভাইয়ের মারামারি, ভিডিও ভাইরাল

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এক নারীকে স্ত্রী দাবি করে দুই ভাইয়ের মারামারি করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আজ শনিবার দুপুরে ভাঙ্গা থানা চত্বরে ও থানার সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ দুই পক্ষকে শান্ত করে থানা চত্বর থেকে বের করে দেয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ওই নারী কয়েক দিন আগে দেবরের (২৫) সঙ্গে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। পরে খোঁজ পাওয়া যায় তিনি সাভারে আছেন। সেখান থেকে তাঁকে ভাঙ্গায় নিয়ে আসা হয়। তখন থানার সামনে দুই ভাই মারামারিতে জড়ান।

এ ঘটনায় ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ২ মিনিট ১১ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারীকে কেন্দ্র করে মারামারি ও হাতাহাতিতে জড়িয়েছেন দুই ব্যক্তি। এ সময় অন্যরা তাঁদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করছেন। একপর্যায়ে ওই নারীর জামাকাপড় ধরে কয়েকজন নারীকে টানাটানি করতে দেখা যায়। ওই নারী প্রথমে স্বামী হিসেবে একজনকে (বড় ভাই) অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করেন। তাঁকে ছেড়ে ছোট ভাইকে বিয়ে করেছেন বলেও দাবি করেন। এ সময় ঘটনাস্থলে শত শত মানুষের ভিড় জমে যায়।

দুই ভাইয়ের বাড়ি ভাঙ্গার যে ইউনিয়নে, সেই ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বাকলেস হরকরা প্রথম আলোকে বলেন, দুই বছর আগে ওই নারীর বিয়ে হয়। একপর্যায়ে দেবরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ নিয়ে বাড়িতে মাঝেমধ্যে বচসা হতো। গত মঙ্গলবার মেয়েটি এককাপড়ে দেবরের সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। জানা যায়, তাঁরা সাভারে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে তাঁদের ভাঙ্গায় নিয়ে আসেন আত্মীয়স্বজনেরা।

বিষয়টি আইনি ও সামাজিকভাবে সমাধানের উদ্দেশ্যে উভয় পক্ষকে নিয়ে থানায় এসেছিলেন বলে জানান ওই নারীর বাবা। তিনি বলেন, থানা প্রাঙ্গণে উভয় পক্ষের আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে কথা–কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

ওই নারী দাবি করেন, ‘আমার প্রথম স্বামী ও পরিবারের লোকজন আমাকে অনেক নির্যাতন করত। সে সময় আমার দেবর আমাকে সহায়তা করত। পরে আমি আমার স্বামীকে ছেড়ে দেবরকে বিয়ে করি। আমরা বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে অন্যত্র ঘর-সংসার শুরু করি।’

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এক নারীকে নিয়ে থানার ফটকের সামনে ঝগড়াবিবাদ হয়। পরে তাঁরা থানা চত্বরে ঢুকেও ঝগড়া করছিলেন। তখন পুলিশ হস্তক্ষেপ করে তাঁদের নিবৃত্ত করে। তিনি বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তাঁরা বাড়িতে গিয়ে সমস্যার সমাধান করবেন বলে জানিয়েছেন।