
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান (বাবলু) ও তাঁর সমর্থকদের বিরুদ্ধে জামায়াত নেতা কাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আলম হুসাইনের ওপর হামলা ও মারধরের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা পরিষদের হলরুমে বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
আজ সকাল ১০টার দিকে ওই হলরুমে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা শুরু হয়। এতে মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য জামায়াত নেতা নাজমুল হুদা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন, কাজিপুর ইউপির চেয়ারম্যান আলম হুসাইন, গাংনী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার এক পর্যায়ে ১৫–২০ জনের একটি দল মিছিল নিয়ে উপজেলা চত্বরে প্রবেশ করে। এ সময় তাঁরা ‘একটি করে শিবির ধর, আর জবাই কর,’ ‘কে বলে রে জিয়া নেই, জিয়া সারা বাংলায়’ প্রভৃতি স্লোগান দেন। একপর্যায়ে তাঁরা উপজেলা হলরুমে সভায় প্রবেশ করেন। এ সময় হট্টগোল শুরু হয় এবং সভা পণ্ড হয়ে যায়। খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে ধাওয়া দিলে মিছিলকারীরা পালিয়ে যান।
জামায়াত নেতা কাজিপুর ইউপির চেয়ারম্যান আলম হুসাইন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আজকের সভায় আসাদুজ্জামান বাবলুও উপস্থিত ছিলেন। তিনি আধিপত্য ধরে রাখতে তাঁর লোকবল মুঠোফোনে ডেকে নিয়ে আমাকে মারধর করার চেষ্টা করেন। সভায় অনেকে উপস্থিত থাকায় আমাকে মারতে পারেননি। এভাবে সরকারি সভায় মারধর করতে আসা এক রকম মববাজি।’
আলম হুসাইন অভিযোগ করেন, সম্প্রতি গাংনী উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের পরিষদে চাল বরাদ্দ নিয়ে আসাদুজ্জামান বাবলুর সঙ্গে বিবাদ হয়েছে। এর জের ধরে আজকের ঘটনা ঘটেছে।
এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, সভায় প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে মাত্র। কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। আর কোনো প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তিনি ফোন রেখে দেন।
ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে গাংনী পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইমন হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নাজমুল হক, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সাহিবুল ইসলাম, যুবদল কর্মী বিজয় হোসেন, পৌর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলামকে দেখা যায়। তবে তাঁদের কাছ থেকে কোনো ভাষ্য পাওয়া যায়নি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনে বিএনপির প্রার্থী আমজাদ হোসেনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছেন জেলা জামায়াতের শুরা সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বলেন, উপজেলা প্রশাসনের অধীনে হওয়া ঠিকাদারি কাজ, টিআর-কাবিখা, খাদ্যগুদামে চাল-গম ক্রয়সহ নানা সরকারি কর্মকাণ্ডে আধিপত্য বিস্তার করতে চায় বিএনপির একটি অংশ। ওই উদ্দেশ্য থেকে আজকের উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এই ঘটনা ঘটেছে।
সংসদ সদস্য নাজমুল হুদা প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচনে পরাজিত হয়ে তারা এখন দখল–বাণিজ্যে নেমেছে। উপজেলা দখল করে স্বেচ্ছাচারিতা করতে চাচ্ছেন আসাদুজ্জামান বাবলু। তবে সন্ত্রাস করে গাংনীর মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন ছিনিয়ে নিতে দেওয়া হবে না।
ইউএনও আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সরকারি কাজের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে আমরা সচেষ্ট। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা প্রশাসনিক কাজে বাধা বরদাশত করা হবে না।’