মা চারবালা হাজংয়ের সঙ্গে কৃষ্ণ হাজং। রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে
মা চারবালা হাজংয়ের সঙ্গে কৃষ্ণ হাজং। রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে

মায়ের দেওয়া কিডনিতে সুস্থ হয়ে উঠছেন কৃষ্ণ হাজং

বছরখানেক আগে নানা শারীরিক সমস্যায় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন কৃষ্ণ হাজং (৩৪)। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ে তাঁর দুটি কিডনিই বিকল। পাঁচ সদস্যের পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম কৃষ্ণের চিকিৎসা তো দূরের কথা, দুই বেলা খাবার জুটানোই দায়। তখন তাঁর পাশে দাঁড়ান বর্তমান ভূমি প্রতিমন্ত্রী কায়সার কামাল। খোঁজাখুঁজির পরও কিডনি পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে তাঁর মা চারুবালা হাজং (৫৮) ছেলেকে একটি কিডনি দান করেন। এখন সেই কিডনিতে সুস্থ হয়ে উঠছেন তিনি।

বর্তমানে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিসিইউ) চিকিৎসা নিচ্ছেন মা ও ছেলে। কৃষ্ণ হাজংয়ের বাড়ি নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী বিজয়পুর এলাকায়। তিনি ওই এলাকার শচীন্দ্র হাজং ও চারুবালা দম্পতির দ্বিতীয় ছেলে তিনি।

স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, থাকার ঘর ও এক চিলতে জায়গা ছাড়া কৃষ্ণদের আর কিছু নেই। তাঁর বাবা শচীন্দ্র হাজং অন্যের জমিতে কাজ করে পাঁচ সদস্যের সংসার চালাতেন। দুই বোন ও কৃষ্ণ তখন স্থানীয় রানীখং উচ্চবিদ্যালয়ে লেখাপড়া করতেন। কৃষ্ণ যখন অষ্টম শ্রেণিতে পড়তেন, তখন তাঁর বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েন। সংসারের দায়িত্ব নেন কৃষ্ণ। বিজয়পুর সাদা মাটির পাহাড় এলাকায় ভ্রাম্যমাণ একটি দোকান দেন। সেই আয় দিয়ে দুই বোনের বিয়ে দেন। ছয় বছর আগে শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে বিয়ে করেন। তাঁদের পাঁচ বছরের একটি মেয়ে আছে।

গত বছরের জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে কৃষ্ণ হাজংয়ের কিডনির সমস্যা ধরা পড়ে। টাকার অভাবে চিকিৎসা থেমে যায়। ওই বছরের ৩ মে অন্তর হাজং নামে তাঁর এক আত্মীয় ফেসবুকে বিষয়টি পোস্ট করেন। সেই পোস্ট নজরে আসে নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ভূমি প্রতিমন্ত্রী কায়সার কামালের। তিনি লোক পাঠিয়ে কৃষ্ণ হাজংকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। তবে ডায়ালাইসিসে কাজ না হওয়ায় কৃষ্ণের মা চারুবালা ছেলেকে নিজের একটি কিডনি দান করেন।

রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন কৃষ্ণ হাজংকে দেখতে যান ভূমি প্রতিমন্ত্রী কায়সার কামাল।

কৃষ্ণের স্ত্রী জয়া হাজং বলেন, গতকাল সোমবার সকাল ৯টা থেকে বেলা দেড়টা একটা পর্যন্ত অস্ত্রোপচার হয়। মা-ছেলে সুস্থ আছেন। তিনি বলেন, ‘ডাক্তার বলছেন, খুবই ভালো অপারেশন হইছে। আমার সঙ্গে শাশুড়ির কথা হইছে। আজ শাশুড়িকে বেডে ট্রান্সফার করা হবে। আর তাঁর (কৃষ্ণ) একটু সময় লাগব। এই দুই সপ্তাহ পর হাসপাতাল ছাড়া যাইব।’

ভূমি প্রতিমন্ত্রী কায়সার কামাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘মা নিজের কিডনি দিয়ে সন্তানের জীবন বাঁচিয়েছেন। এটি সত্যিই বিরল উদাহরণ। প্রার্থনা করি, তাঁরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন। আর আমার রাজনীতি তো জনগণের জন্যই। আমার একটু সহযোগিতায় কৃষ্ণ সুস্থ হয়ে উঠছেন, এটাই আমার আনন্দ।’