
কক্সবাজারের পেকুয়ায় পুলিশ পরিচয় দিয়ে একটি বাড়িতে ঢুকে ডাকাতেরা ১৬ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং ৩টি মুঠোফোন লুট করে নিয়ে যায়। গতকাল রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে পেকুয়া উপজেলার আব্দুল হামিদ সিকদারপাড়া গ্রামের রেজাউল করিমের বাড়িতে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
রেজাউল করিম মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। ঘটনার আগে তিনি বাড়ির বাইরে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় গাড়িতে করে কয়েকজন লোক এসে পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাঁকে বলেন, ‘চলো, তোমার বাসায় যাব।’
ভুক্তভোগী রেজাউল করিমের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাত একটার দিকে তিনি কয়েকজন প্রতিবেশীসহ বাড়ির পাশের একটি মুদিদোকানে আড্ডা দিচ্ছিলেন। কিছুক্ষণ পর একটি গাড়িতে করে ছয়জন লোক সেখানে এসে নামেন। এরপর পুলিশ পরিচয়ে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। একপর্যায়ে রেজাউল ও তাঁর তিন প্রতিবেশীর কাছ থেকে তাঁরা মুঠোফোন ও টাকা ছিনিয়ে নেন। এরপর পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাঁরা রেজাউল করিমকে নিয়ে তাঁর বাসায় যান।
রেজাউল করিম বলেন, ‘আনুমানিক রাত ৩টার দিকে তাঁরা আমাকে বাড়ি দেখিয়ে দিতে বলেন। আমি তাঁদের পুলিশ সদস্য মনে করে বাড়িতে নিয়ে যাই। বাড়ির প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা আমার ঘাড়ে বন্দুক ঠেকিয়ে জিম্মি করেন। এ সময় তাঁদের সবার হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র ছিল। তাঁরা পরিবারের নারী ও শিশুদেরও জিম্মি করে ফেলেন। প্রথমে তাঁরা আমার বড় ভাই প্রবাসী জমির আলমের কক্ষে প্রবেশ করেন। সেখানে তাঁর স্ত্রীকে মারধর করে পরনের সব স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেন। পরে আলমারির তালা ভেঙে প্রায় সাড়ে ৭ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা লুট করেন।’
রেজাউল করিম আরও বলেন, ‘তিনজন ডাকাত আমার কক্ষে প্রবেশ করে আমার স্ত্রীর গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে আলমারির তালা ভেঙে প্রায় সাড়ে ৮ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা নিয়ে যান। আমি কথা বলতে চাইলে একজন আমাকে মারধর করেন। পরে বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে আমাদের ঘরের ভেতরে আটকে রেখে পালিয়ে যান তাঁরা।’
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ওসি বলেন, দুর্বৃত্তরা পুলিশ পরিচয় দিলেও তাঁদের পুলিশের পোশাক ছিল না। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।