গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন জেলেদের খোঁজখবর নেন গলাচিপা উপজেলার ইউএনও আবুজর মো. ইজাজুল হক
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন জেলেদের খোঁজখবর নেন গলাচিপা উপজেলার ইউএনও আবুজর মো. ইজাজুল হক

বঙ্গোপসাগরে ঝড়ে ট্রলারডুবি, তিন দিনেও উদ্ধার হননি পটুয়াখালীর ৬ জেলে

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ট্রলারডুবির ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার নিখোঁজ ছয় জেলের সন্ধান মেলেনি। একই ঘটনায় পাঁচ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুজন গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তাঁরা হলেন গলাচিপা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের ফোরকান হাওলাদার (৪৫) ও তাঁর ছেলে সাইদুল ইসলাম (১৯); আল আমিন (৪৫); পানপট্টি ইউনিয়নের হারুন মিয়া (৪০) ও এমাদুল (৩০) এবং সদর ইউনিয়নের পাক্ষিয়া গ্রামের আকাশ (২২)।

এর আগে গত রোববার পায়রা সমুদ্রবন্দরসংলগ্ন এলাকা থেকে ১০০–১৫০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার একটি ট্রলার ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। ট্রলারে থাকা ১১ মাঝিমাল্লার মধ্যে ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও ৬ জন নিখোঁজ হন।

ওই ঘটনায় উদ্ধার ব্যক্তিরা হলেন ট্রলারমালিক এমাদুল সিকদার (৩৮), নাজমুল (২২), সাকিল (২১), বায়জীদ (২২) ও রাকিব (২১)। এর মধ্যে এমাদুল সিকদার ও রাকিব গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

জেলেদের বাড়িতে পৌঁছে খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের আর্থিক সহায়তা তুলে দেন গলাচিপা উপজেলার ইউএনও

এমাদুল সিকদার বলেন, গত শনিবার রাতে ১১ জন মাঝিমাল্লাকে নিয়ে তিনি সাগরে মাছ ধরতে যান। পায়রা সমুদ্রবন্দর এলাকা থেকে পাঁচ–ছয় ঘণ্টা ট্রলার চালিয়ে গভীর সাগরে পৌঁছে তাঁরা জাল ফেলেন। গত রোববার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ দমকা বাতাসে ট্রলারটি উল্টে ডুবে যায়।

এমাদুলের ভাষ্য, দুর্ঘটনার সময় ট্রলারের ইঞ্জিন বা কেবিনে থাকা তিনজন বের হতে পারেননি। বাইরে থাকা আটজনের মধ্যে তিনজন ট্রলারের একটি অংশ ধরে ভেসে থাকেন। তিনি ও আরও পাঁচজন মাছ ধরার ভাসমান বয়া ধরে সাগরে ভাসতে থাকেন। প্রায় ছয় ঘণ্টা পর ভোরে পাশ দিয়ে যাওয়া একটি মাছ ধরার ট্রলারের লোকজন তাঁদের উদ্ধার করেন।

গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ট্রলারডুবির ঘটনায় ট্রলারের মালিকের বাবা ইদ্রিস সিকদার একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। এতে ছয়জন নিখোঁজ এবং পাঁচজন জীবিত উদ্ধারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

গলাচিপা উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী বলেন, দীর্ঘ সময় সাগরে ভাসমান থাকা এবং লবণপানি পেটে যাওয়ায় এমাদুল সিকদার ও রাকিবকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর ইজাজুল হক বলেন, উদ্ধার হওয়া জেলে ও তাঁদের পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। গতকাল ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ৭ হাজার ৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তা ও খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর সহায়তা চাওয়া হয়েছে।