
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার মধ্যরাতে উপজেলার কুমারগাতা ইউনিয়নের ঘোষবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পরিবারের দাবি, ঘরে ঢুকে পড়া চোরের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন ওই ব্যক্তি। তবে পুলিশ বলছে, বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ আছে। এ অবস্থায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই যুবকের স্ত্রী ও তাঁদের মেয়েকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
নিহত ব্যক্তির নাম রফিকুল ইসলাম (৩৯)। তিনি মুক্তাগাছা উপজেলার ঘোষবাড়ি গ্রামের তাছেম আলীর ছেলে। পেশায় শ্রমিক রফিকুল স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে থাকতেন।
পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টার দিকে স্থানীয় একটি দোকান থেকে বাড়িতে ফেরেন রফিকুল ইসলাম। এ সময় নিজের ঘরে ঢুকে তিনি মুখোশ পরা অবস্থায় এক ব্যক্তিকে দেখতে পান। তখন ঘরে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানেরা ঘুমিয়ে ছিলেন। সেখানে ওই ব্যক্তির সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান রফিকুল। একপর্যায়ে রফিকুলকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় ওই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি। পরে এলাকায় খবর ছড়িয়ে পড়ে, চুরি করতে এসে ওই যুবককে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে।
গুরুতর আহত অবস্থায় রফিকুলকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
নিহত রফিকুলের ছোট ভাই মফিজুল ইসলাম বলেন, ভাবির চিৎকার শুনে তাঁরা ঘুম থেকে উঠে রাস্তার দিকে ছুটে যান। তবে সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে ঘরের সামনের এক পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় রফিকুল ইসলামকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁর ভাবি তাঁদের বলেছেন, ঘরে আগে থেকেই একজন ঢুকে ছিলেন এবং মুখোশ পরা থাকায় তাঁকে চিনতে পারেননি। তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল না।
খবর পেয়ে পুলিশ আজ বুধবার ভোরে রফিকুলের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়। একই সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশের ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘চুরির কথা বলা হলেও আমরা তেমন কোনো আলামত পাইনি। ঘরে চুরি হওয়ার মতো কিছু নেই। নিহত ব্যক্তির স্ত্রীর বক্তব্যে কিছু অসংলগ্নতা আছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’