সার কম দেওয়ায় সড়ক অবরোধ। আজ সোমবার সকালে রাজশাহীর পুঠিয়ার বানেশ্বরে
সার কম দেওয়ায় সড়ক অবরোধ। আজ সোমবার সকালে রাজশাহীর পুঠিয়ার বানেশ্বরে

পুঠিয়ায় সার কম দেওয়ার অভিযোগে সড়ক অবরোধ

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় সার কম দেওয়ার অভিযোগে চাষিরা সড়ক অবরোধ করেন। আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত তাঁরা উপজেলার বানেশ্বরে রাজশাহী-নাটোর সড়ক অবরোধ করেন।

কয়েকজন চাষি বলেন, এক মাস পর তাঁরা আজ সকালে সার নিতে আসেন। তাঁদের মাত্র ১০ কেজি করে ডিএপি সার দেওয়া হচ্ছে। এ সারে তাঁদের কিছুই হবে না। এ কারণে তাঁরা সড়ক অবরোধ করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও পুলিশ তাঁদের বুঝিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিএডিসির সার ডিলার ‘মেসার্স ইব্রাহিম আলী’ আজ সার উত্তোলন করেন। পরে কৃষি কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এসে অ্যারাইভাল রিপোর্ট (আগমনী বার্তা) তৈরি করেন। পরে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করার কথা। এ ডিলার ১৬০ বস্তা ডিএপি, ৭২ বস্তা টিএসপি ও ৯৬ বস্তা এমওপি সার বরাদ্দ পেয়েছেন। উপজেলার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে চাষিরা এ সার পাবেন। কিন্তু চাষিদের ১০ কেজি করে ডিএপি সার দিতে চাওয়ার কারণে তাঁরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
বিড়ালদহ গ্রামের চাষি দুলু মিয়া বলেন, তাঁদের ১ হাজার ২০০ টাকা বস্তার সার ২ হাজার ২০০ টাকা দিয়ে কিনতে হয়। সার ডিলাররা তাঁদের সার কম দিয়ে ওই সার খুচরা ডিলারদের কাছে বিক্রি করে দেন। পরে সেই খুচরা ডিলারদের কাছ থেকে তাঁদের বেশি দামে সার কিনতে হয়।

চাষিরা সড়ক অবরোধ করায় ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ ও যাত্রীরা। আজ সোমবার সকালে রাজশাহীর পুঠিয়ার বানেশ্বরে

কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে বেলা ১১টার পরপরই ইউএনও লিয়াকত সালমান, কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানি সরকার ও পুঠিয়া থানার পুলিশ এসে অবরোধ প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করেন। তাঁরা চাষিদের নিয়ে বানেশ্বর ব্যবসায়ী সমিতির কার্যালয়ে বসে তাঁদের বোঝান। পরে তাঁদের ডিএপি ২৫ কেজি, টিএস ১০ কেজি ও ১৫ কেজি এমওপি সার দেওয়া হয়।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অন্য চাষিরা বলেন, বর্তমানে রোপা আমন মৌসুমে জমিতে সার প্রয়োগের উপযুক্ত সময় চলছে। কিন্তু স্থানীয় সার ডিলারদের কাছে চাহিদা অনুযায়ী সার পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁদের অভিযোগ, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে খোলা বাজারে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করা হচ্ছে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভোর ৬টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। সকাল ১০টার দিকে বিসিআইসির ডিলার ওছমান আলী বলেন, সার শেষ। আমরা সার না পেলে জমি রক্ষা করব কীভাবে? সিন্ডিকেট করে আমাদের পকেট কাটা হচ্ছে। আমরা এর বিচার চাই।’

তবে কৃষকদের অভিযোগ অস্বীকার করে বিসিআইসির সার ডিলার ওছমান আলী বলেন, ‘চাষিরা ভিত্তিহীন অভিযোগে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছেন। আমাদের এখানে এখন পর্যন্ত ইউরিয়ার কোনো সংকট নেই। সবাইকে সার দেওয়া হচ্ছে।’

পুঠিয়ার ইউএনও লিয়াকত সালমান বলেন, চাষিদের দাবি ছিল, বর্তমানে যে পরিমাণ সার বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, তার চেয়ে আরও বেশি সার বরাদ্দ দিতে হবে। পাশাপাশি ডিলারদের বিরুদ্ধে অব্যবস্থাপনার অভিযোগও করেছেন তাঁরা। চাষিরা নিজেদের গ্রামে কীটনাশকের ডিলারদের দোকানেও সার বিক্রির দাবি জানিয়েছেন। এসব বিষয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। বানেশ্বরের পাশেই চারঘাট উপজেলা। চারঘাটের অনেক চাষিও বানেশ্বরের ডিলারদের কাছ থেকে সার নেন। অথচ বানেশ্বরের ডিলারদের সার বরাদ্দ করা হয় শুধু বানেশ্বর ইউনিয়নের চাষিদের চাহিদার ভিত্তিতে। এ কারণে এখন থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে সার বিক্রির নিয়ম করা হয়েছে। বানেশ্বর ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ করা সারে অন্য এলাকার চাষিরা যাতে ভাগ বসাতে না পারেন, তা নিশ্চিত করা হবে।

ইউএনও আরও বলেন, চাহিদার ভিত্তিতেই প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য সার বরাদ্দ করা হয়। তাই স্থানীয় চাষিরা যাতে চাহিদা অনুযায়ী সার পান, সে জন্য ডিলারের দোকানে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা উপস্থিত থাকবেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়মিত নজরদারি করা হবে। প্রায় ১৫০ জন চাষি সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। প্রায় ৪০ মিনিট অবরোধ চলার পর তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে চাষিদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তাঁদের আশ্বস্ত করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।