লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমি নামে একটি বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস থেকে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। গতকাল মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এর আগে বিকেলে ছাত্রাবাস থেকে লাশ উদ্ধার হয়।
ওই শিক্ষার্থীর নাম মেহেদী হাসান (১৪)। সে উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়নের রাঘবপুত গ্রামের জিয়া উদ্দিন জিয়ার ছেলে। ফরিদ আহম্মেদ ভূঁইয়া একাডেমির অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিল সে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকেলে ছাত্রাবাসের জানালার গ্রিলে মেহেদীর লাশ ঝুলছিল। খবর পেয়ে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। পুলিশের ধারণা, মেহেদী আত্মহত্যা করেছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, মেহেদীকে হত্যার পর লাশটি ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
মেহেদী হাসানের বাবা জিয়া উদ্দিন বলেন, ‘আমার ছেলে সুস্থ-স্বাভাবিক ছিল। তার আত্মহত্যা করার মতো কোনো কারণ ছিল না। আমরা ধারণা করছি, তাকে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
এদিকে শিক্ষার্থীকে হত্যা করা হয়েছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত আটটার দিকে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে ভাঙচুর চালান। বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, অভ্যর্থনাকক্ষ ভাঙচুর করা হয়। উত্তেজিত জনতা দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সামনে অবস্থান করেন। পরে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আতিকুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করেন। তিনি এ সময় বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ওই শিক্ষার্থীকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে এলাকাবাসী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে ভাঙচুর করেছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে।