
বরগুনা-২ (বামনা, পাথরঘাটা ও বেতাগী উপজেলা) আসনে বেতাগী উপজেলায় জামায়াতের এক নেতাকে মারধর করে দলটির প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট–সংক্রান্ত কাগজপত্র ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। আজ বুধবার বিকেলে বেতাগী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন ভুক্তভোগী জামায়াত নেতা সাইদুর রহমান (দুলাল)। তিনি সদর ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি। তিনি বলেন, আজ বিকেলে বেতাগী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি চায়ের দোকানে নাশতা করছিলেন। এ সময় তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালান বেতাগী উপজেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি রুমান খানসহ তিন-চার জন। তাঁরা কিল–ঘুষি মারতে থাকেন।
আসনটিতে জামায়াতের প্রার্থী সুলতান আহমদ। বিএনপির প্রার্থী দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম (মণি)। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, এখানে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে শক্ত লড়াই হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সাইদুর রহমান বলেন, ‘হামলাকারীরা আমার কাছ থেকে জামায়াত প্রার্থীর বেতাগী সদর ইউনিয়নের নির্বাচনী এজেন্ট ও পোলিং এজেন্টদের তালিকা ও ডায়েরি, কাগজপত্র এবং পাঁচটি মুঠোফোন নিয়ে যায়। বিষয়টি বেতাগী থানাকে অবহিত করা হয়েছে। তবে তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ছিনিয়ে নেওয়া এজেন্ট ও পোলিং এজেন্টদের তালিকা ধরে তাঁদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনের সময় আমরা যাতে এজেন্ট দিতে না পারি, সে জন্য পরিকল্পিতভাবে বিএনপির সন্ত্রাসী নেতা-কর্মী এ হামলা চালিয়েছে। বিভিন্নভাবে আমাদের নেতা-কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু প্রশাসন এসব বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।’
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহ. সাদ্দাম হোসেন প্রথম আলোকে জানান, জামায়াত নেতাকে হেনস্তা করার বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছেন। অভিযোগটি নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটির কাছে তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে তাঁরা ব্যবস্থা নেবেন।
অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রদল নেতা রুমন খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই জামায়াত নেতা একটি চায়ের দোকানে বসে আমাদের পরিচিত ছোট ভাইদের এক হাজার করে টাকা দেওয়ার কথা বলেন। এ সময় তাঁরা টাকা নেবেন না বলে হইচই শুরু করেন। বিষয়টা আমার নজরে আসে। এরপর জামায়াতের ওই নেতাকে জিজ্ঞেস করি, আপনি কেন টাকা বিলাচ্ছেন? এরপর সেখানে আমাদের দলীয় লোকজন উপস্থিত হয়ে তাঁর কাছে বেশ কিছু টাকা ও ডায়েরি পান। পরে থানা থেকে সেখানে পুলিশ চলে আসে। তাঁকে মারধরের বিষয়টি সম্পূর্ণ বানোয়াট। এ বিষয়ে আমরাও ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’