
কুমিল্লার সব থানা এলাকায় তৃতীয় দফায় চালানো কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৪১৫ জনের মধ্যে ২৭৭ জনকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। বাকি ১৩৮ জনের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও সেবন, নিয়মিত মামলা, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ বিভিন্ন অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আজ সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান প্রথম আলোকে এ তথ্য জানান।
এর আগে গতকাল রোববার সন্ধ্যা ৭টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কুমিল্লার ১৮টি থানা ও জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সমন্বয়ে এই অভিযান চালানো হয়।
লুৎফুর রহমান বলেন, মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় দেওয়া কিশোরদের নজরদারিতে রাখা হবে। তবে কোন থানা এলাকায় কতজন আটক হয়েছেন এবং কতজনকে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।
এর আগে গত বুধবার ও শনিবার রাতে একইভাবে অভিযান চালিয়ে ৮৭৮ জনকে আটক করেছিল পুলিশ। তাঁদের মধ্যে ৫৯৭ জনকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ২৮১ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
গতকালের ৪১৫ জনসহ গত ৫ দিনে ৩ দফার অভিযানে মোট ১ হাজার ২৯৩ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৮৭৪ জনকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। ৪১৯ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের ভাষ্য, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রয়েছে, এমন বিভিন্ন স্থান, কিশোরদের আড্ডাস্থল ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় এসব অভিযান চালানো হচ্ছে। জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশে ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালানো হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর। ১৮ সেপ্টেম্বর কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় ১৩ বছরের অপ্রতিম। পরদিন সদর দক্ষিণ উপজেলার সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের মধ্যে দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা, সদস্যদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া এবং এসব গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এর মধ্যেই গত পাঁচ দিনে তিন দফায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালায় পুলিশ।
শনিবারের অভিযানে নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ ৩৭ জনকে আটক করে। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনকে ‘রতন গ্রুপ’ বা ‘আর স্কোয়াডের’ সক্রিয় সদস্য বলে জানিয়েছিল পুলিশ। তাঁদের একজন আনিসুর রহমান ওরফে আনিককে (১৯) গ্রুপটির ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে পুলিশ। এবার গতকালের অভিযানে আটক সিফাতকে ‘আর স্কোয়াডের’ অন্যতম সদস্য হিসেবে শনাক্ত করার কথা জানাল কোতোয়ালি মডেল থানা।