
ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসংলগ্ন চত্বরে ভাঙচুর হওয়া বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য পরিদর্শন করেছে ঢাকার একটি নাগরিক প্রতিনিধিদল। আজ বৃহস্পতিবার বেলা একটার দিকে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সেখানে পৌঁছান। এ সময় তাঁরা ভাস্কর্যটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানান।
প্রতিনিধিদলে ছিলেন বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন, সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ফারহা তানজীম তিতিল ও বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের নেতা দীপায়ন খীসা। এ সময় তাঁরা ভেঙে ফেলা বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং চত্বরে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলেন।
নূর খান লিটন বলেন, ‘এখানে এসেছি আমাদের অস্তিত্বের প্রশ্নে। বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য এভাবে উপড়িয়ে ফেলার যে চেষ্টা করা হয়েছে, তা দুর্ভাগ্যজনক। এটা সত্য, প্রশাসনের কেউ প্রথমে জানত না কে ভাঙছে? কারা ভাঙছে? বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য মুক্তিযুদ্ধের অস্তিত্ব, বাংলাদেশের অস্তিত্ব, আমার প্রাণের অস্তিত্ব। যারা ঘৃণ্য কাজ করেছে, তারা আর যাই হোক মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কেউ না।’ এখানেই এই ভাস্কর্য আরও সুন্দরভাবে পুনর্নির্মাণ করার দাবি করেন তিনি।
ভাস্কর্য ভাঙার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে আপস করে রাষ্ট্রের কোনো কিছু চলতে পারে না। আমরা ১৯৭১–কে ধারণ করি, আমরা ১৯৯০–এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনকে ধারণ করি, আমরা ২৪–এর জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। আমরা জুলাইয়ের চেতনাকেও ধারণ করি। ১৯৭১ ও জুলাই আন্দোলনের চেতনার কোনো পার্থক্য নেই। মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি ১৯৭১–কে মানতে চায় না, মুক্তিযুদ্ধকে মানতে চায় না।ভাস্কর্যটি তারাই ভেঙেছে, যারা ১৯৭১–কে মানে না।’
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য এভাবে উপড়িয়ে ফেলার যে চেষ্টা করা হয়েছে, তা দুর্ভাগ্যজনক। বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য মুক্তিযুদ্ধের অস্তিত্ব, বাংলাদেশের অস্তিত্ব, আমার প্রাণের অস্তিত্ব। যারা ঘৃণ্য কাজ করেছে, তারা আর যাই হোক মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কেউ না।নূর খান লিটন, মানবাধিকারকর্মী
আবু সাইদ খান বলেন, ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক, এখানে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যটি ভাঙা হয়েছে দিনের বেলায়। এই ঘটনা কারা ঘটিয়েছে, আমরা প্রশাসনের কাছে তাদের নাম প্রকাশ্যে আনার দাবি জানাই। সেই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।’
পরে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করেন। বেলা আড়াইটার দিকে তাঁরা ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৩ জুলাই থেকে ঝিনাইদহ শহরের প্রবেশপথে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক ও ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের লিংক পয়েন্টে স্থাপিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যটি ভাঙচুরের কাজ শুরু হয়। তবে কারা ভাঙছে, কী কারণে ভাঙা হচ্ছে জানতে চাওয়া হলে জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কিছুই জানাতে পারেনি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়। ১৭ জুলাই জেলা প্রশাসন ভাস্কর্য ভাঙার কাজ স্থগিত করে।
২০১৯ সালের ২৬ মার্চ ঝিনাইদহ পৌরসভা বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের চত্বরের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করে। পরে অসমাপ্ত অবস্থায় তা ফেলে রাখা হয়। স্থানটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল।