নিখোঁজের প্রায় ২২ ঘণ্টা পর কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের লাশ আজ শনিবার উদ্ধার করে পুলিশ
নিখোঁজের প্রায় ২২ ঘণ্টা পর কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের লাশ আজ শনিবার উদ্ধার করে পুলিশ

অপ্রতিম হত্যা: আরেক সন্দেহভাজনকে আটক করেছে এসআরবি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে (১৩) হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন এক কিশোরকে (১৭) আটক করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। এ ঘটনায় এর আগে পুলিশ একই বয়সী এক কিশোরকে আটক করে।

আজ শনিবার বিকেলে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বেলতলী এলাকা থেকে এই কিশোরকে আটক করে এসআরবি।

এর আগে বেলা একটার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়–সংলগ্ন সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

আগের দিন শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। সে কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পরিবারের ভাষ্য, বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে সে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিল। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। তার সঙ্গে থাকা আইফোনটি এখনো পাওয়া যায়নি।

এসআরবি-১১-এর সিপিসি-২ কুমিল্লার উপপরিচালক ও অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম শনিবার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর এখন তাঁদের হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযান শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

এর আগে ক্লোজড সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে দেখা যাওয়া এক কিশোরকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর কোটবাড়ি এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় দুজনকে আটকের বিষয়টি কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান শনিবার রাত নয়টার দিকে প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ধরতে থানা–পুলিশ, ডিবি, এসআরবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট অভিযান পরিচালনা করছে।

এদিকে জেলা পুলিশের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনার পরপরই ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা আটক করেন। এরপর তাকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হচ্ছে। ওই কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে আরেক কিশোরকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

সেই হিসেবে এ ঘটনায় মোট আটকের সংখ্যা তিনজনে দাঁড়াবে। তবে তৃতীয় কিশোরকে আটকের কথা জেলা বা থানা–পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।