বগুড়ার শেরপুরে ধান ব্যবসায়ী হামিদুল মণ্ডল (৪২) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ বলছে, জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তিনি হত্যার শিকার হন। এ ঘটনায় তাঁর দুই ভাতিজাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার তাঁদের আদালতে নেওয়া কথা আছে।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল সোমবার বিকেলে হামিদুলের দুই ভাতিজাকে থানায় নেওয়া হয়। সন্ধ্যায় জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তাঁরা পুলিশের কাছে হত্যার সঙ্গে নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তাদের এ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গ্রেপ্তার দুজনের একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক, অন্যজনের নাম আতিক হাসান (২১)।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে হত্যায় ব্যবহৃত উপকরণ এবং লাশ স্থানান্তরের বিষয়ে তথ্য দেন গ্রেপ্তার দুজন। তাঁদের তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল রাতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি এবং লাশ স্থানান্তরে ব্যবহৃত মই উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে গত রোববার সকালে উপজেলার জামালপুর সড়কের পাশের একটি জমি থেকে হামিদুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জমিটি তাঁর নিজস্ব। এ ঘটনায় হামিদুলের স্ত্রী রাফিয়া বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাঈফ আহমেদ বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, হামিদুল মণ্ডল তিনটি বিয়ে করেছিলেন। প্রথম দুটি বিয়েতে তালাক হয় এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে একটি কন্যাসন্তান আছে। তৃতীয় স্ত্রী রাফিয়া খাতুনের ঘরে সন্তান হলে চাচা হামিদুলের সম্পত্তি হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করেন দুই ভাতিজা। এ জন্য তাঁরা হামিদুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত শনিবার রাত নয়টার দিকে তাঁকে বাড়ির পেছনে ডেকে নিয়ে গিয়ে গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে ওই রাতেই মইয়ের ওপর নিয়ে মরদেহটি গ্রামের সড়কের পাশের ওই জমিতে ফেলে রাখা হয়।
শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন বলেন, হত্যার এক দিনের মধ্যেই পুলিশ রহস্য উদ্ঘাটন করতে পেরেছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজন ছাড়াও আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।