
গাইবান্ধার সাঘাটায় পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মী নিয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও গাইবান্ধা জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান সরকার। গতকাল মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে উপজেলার ডাকবাংলা বাজারের পাশে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি।
ওই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও ঘুড়িদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম আহমেদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী ফারুক আলম সরকার। তিনি নবাগতদের ফুলের তোড়া দিয়ে দলে বরণ করে নেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন নবী ও শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আসাদুল কবির। এ ছাড়া জেলা বিএনপির সদস্য জিল্লুর রহমান, শিল্পপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য কামরুজ্জামান সোহাগসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচনের এক দিন আগে সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকার মধ্যেই ওই অনুষ্ঠান করায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী নাহিদুজ্জামান নিশাদ।
এই স্বতন্ত্র প্রার্থী বলেন, গতকাল সকাল থেকেই সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ছিল। এরপরও আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ওই যোগদান সভা করা হয়েছে। এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হবে।
তবে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন নবী বলেন, ‘বিএনপিতে যে কেউ যেকোনো সময় যোগ দিতে পারেন। এতে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি।’
এ বিষয়ে জানতে বিএনপি প্রার্থী ফারুক আলম সরকারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
বিএনপিতে যোগদানের বিষয়ে আতাউর রহমান সরকার বলেন, জাতীয় পার্টিতে তাঁর সঙ্গে বারবার প্রতারণা করা হয়েছে। গত ৫ আগস্টের পর থেকে দলের পেছনে অনেক টাকা খরচ করেছেন। এরপরও তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও বারবার প্রতারণার শিকার হওয়ায় তিনি নেতা-কর্মীদের নিয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে একাধিকবার কল করা হলেও তাদের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
গাইবান্ধা-৫ আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী আছেন। তাঁরা হলেন—বিএনপির ফারুক আলম সরকার, জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী, জাপার বিদ্রোহী প্রার্থী এ এইচ এম গোলাম শহীদ, জামায়াতের আবদুল ওয়ারেছ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আজিজুল ইসলাম, সিপিবির শ্রী নিরমল, বাসদের (মার্ক্সবাদী) রাহেলা খাতুন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী নাহিদুজ্জামান নিশাদ ও হাসান মেহেদী।