যশোর শহরে পাওনা টাকা আদায়ের দাবিতে অনশনে বসেছেন এক ব্যক্তি। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (আরএন) সড়ক এলাকার ‘রওনক সানফ্লাওয়ার’ টাওয়ারের সামনে
যশোর শহরে পাওনা টাকা আদায়ের দাবিতে অনশনে বসেছেন এক ব্যক্তি। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (আরএন) সড়ক এলাকার ‘রওনক সানফ্লাওয়ার’ টাওয়ারের সামনে

যশোরে পাওনা টাকা না পেয়ে দেনাদারের বাড়ির সামনে অনশন

চার বছর ধরে পাওনা টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন আল আমিন নামের এক পাওনাদার। টাকা আদায়ের দাবিতে দেনাদারের বাড়ির সামনে ব্যানার-ফেস্টুন ঝুলিয়ে প্রতীকী অনশনে বসেছেন তিনি। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোর শহরের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (আরএন) সড়ক এলাকার ‘রওনক সানফ্লাওয়ার’ টাওয়ারের সামনে এই কর্মসূচি দেখা যায়।

আল আমিন বলেন, গতকাল বুধবার বেলা আড়াইটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত এই কর্মসূচি পালন করেন। আজ সকাল ১০টা থেকে প্রতীকী অনশন শুরু করেছেন।

এ প্রতিবেদন লেখার সময় ছয়টা পর্যন্ত আল আমিন সেখানেই ছিলেন।

সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার পর আমি ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়ি। চিকিৎসা খরচ চালাতে গিয়ে বর্তমানে চরম অর্থকষ্টে ভুগছি। পাওনা টাকা ফেরত পেতে বারবার যোগাযোগ করেও কোনো কাজ হয়নি।
আল আমিন, পাওনাদার

আজ প্রতীকী অনশনের প্ল্যাকার্ড নিয়ে অবস্থানের সময় আলামিনের পাশে ছিল সাউন্ড বক্স। বক্সে বাজছিল রেকর্ডিং করা সেই ঘটনার বিবরণ। ভুক্তভোগীর এমন অভিনব প্রতিবাদ দেখে পথচারীসহ স্থানীয়দের উৎসুক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

আল আমিন জানান, তিনি দীর্ঘদিন সৌদি আরবে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রবাসে থাকাকালে মিজানের মাধ্যমে জানতে পারেন, শাহরিয়ার পলাশ নামে এক ব্যক্তি একটি দোকান বিক্রি করবেন। কথা অনুযায়ী দোকানটি কেনার উদ্দেশ্যে চার বছর আগে মিজানের মাধ্যমে শাহরিয়ার পলাশকে ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা দেন আল আমিন। টাকা পরিশোধের পর দোকানটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার জন্য বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও পলাশ নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। পরে আল আমিন খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, যে দোকানটি তাঁর কাছে বিক্রির কথা বলা হয়েছিল, সেটির মালিকানা নিয়ে শরিকদের মধ্যে বিরোধ আছে। পলাশ এককভাবে দোকানটির মালিক নন। বিষয়টি জানার পর আল আমিন টাকা ফেরত চান। কিন্তু টাকা ফেরত না দিয়ে শাহরিয়ার পলাশ বিভিন্ন কৌশলে তাঁকে ঘোরাতে থাকেন।

শরিকদের সমস্যার কারণে আল আমিনের কাছে দোকানটি হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি। দোকানটি অন্য কোথাও বিক্রি করার চেষ্টা চলছে; এটি বিক্রি করতে পারলেই আল আমিনের পাওনা টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হবে।  
শাহরিয়ার পলাশ, দেনাদার

নিজের শারীরিক ও আর্থিক অবস্থার বর্ণনা দিয়ে আল আমিন বলেন, ‘সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার পর আমি ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়ি। চিকিৎসা খরচ চালাতে গিয়ে বর্তমানে চরম অর্থকষ্টে ভুগছি। পাওনা টাকা ফেরত পেতে বারবার যোগাযোগ করেও কোনো কাজ হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে দেনাদারের দৃষ্টি আকর্ষণ ও পাওনা আদায়ের লক্ষ্যে অনশনে বসেছি।’

শাহরিয়ার পলাশ টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, শরিকদের সমস্যার কারণে আল আমিনের কাছে দোকানটি হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি। দোকানটি অন্য কোথাও বিক্রি করার চেষ্টা চলছে; এটি বিক্রি করতে পারলেই আল আমিনের পাওনা টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হবে।  

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাছুম খান বলেন, ‘কর্মসূচির ঘটনাটি শুনেছি। কিন্তু ভুক্তভোগী কোনো অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’