ফেনীতে ছুরিকাঘাতে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও একজন। গতকাল শুক্রবার রাত ১২টার দিকে ফেনী শহরের নাজিররোড এলাকার টিপটপ মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের দাবি, হত্যার সঙ্গে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা জড়িত।
নিহত তরুণের নাম মো. মাসুদ হাসান (১৮)। তিনি কুমিল্লা জেলার তিতাস থানার জয়পুর গ্রামের মো. নয়নের ছেলে। ফেনীতে একটি বরফকলে শ্রমিক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন তিনি। এর পাশাপাশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। আহত হয়েছেন মো. ইরফান (১৮)। তিনি ফেনীর নাজিররোডের বাসিন্দা।
হত্যার ঘটনায় পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁরা হলেন কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানার চিওড়া গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে ইমরান হোসেন (২০) ও বাগেরহাট জেলার কচুয়া এলাকার আবদুর রহিমের ছেলে রাইমান ইসলাম (১৮)।
পুলিশ ও নিহত ব্যক্তির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে নিজের অটোরিকশা নিয়ে বের হয়েছিলেন মো. মাসুদ হাসান। তাঁর সঙ্গে ইরফানও ছিলেন। পথে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের সঙ্গে তাঁদের কথা–কাটাকাটি হয়। এর এক পর্যায়ে কিশোর গ্যাংটির সদস্যরা মাসুদের কাঁধে ও বুকে ছুরিকাঘাত করেন। ইরফানের মুখে ও কানে ছুরিকাঘাত করা হয়।
আহত অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা মাসুদ ও ইরফানকে উদ্ধার করে ফেনী ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাসুদকে মৃত ঘোষণা করেন। ইরফানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক (ইএমও) রুহুল মোহছেন বলেন, হাসপাতালের আনার আগেই মাসুদের মৃত্যু হয়। তাঁর কাঁধের বাঁ পাশে এবং বুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জখমের গভীর ক্ষত রয়েছে। অপরজনের মুখে ও বাঁ কানে ক্ষত দেখা গেছে।
নিহত মাসুদের বাবা মো. নয়ন বলেন, তাঁর ছেলে কয়েক দিন ধরে অসুস্থ থাকায় বরফকলেও যাননি। শুক্রবার রাতে একটু ভালো লাগায় টমটম নিয়ে বের হয়েছিলেন। বের হওয়ার কিছু সময় পরই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা ছেলেকে ছুরিকাঘাত করেন। পরিকল্পিতভাবেই মাসুদকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
মো. নয়ন বলেন, হামলাকারী কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা নেশাগ্রস্ত। নেশার টাকা জোগাড়ে তাঁরা প্রায়ই টাকার জন্য মাসুদকে চাপ দিতেন। টাকা না পেয়ে তাঁর ওপর হামলা হয়েছে। এর আগেও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা মাসুদের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিলেন।
ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, হত্যার ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিবার একটি মামলা করেছে। এরপর দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।