
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাম আক্রান্ত হয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেলে ও রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে গত ১২ দিনে হাম আক্রান্ত হয়ে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হলো।
আজ রোববার সকাল ১০টা পর্যন্ত হাম আক্রান্ত ৬৬ জন শিশু ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তি আছে। গতকাল থেকে আজ সকাল পর্যন্ত নতুন করে তিনজন ভর্তি হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে ছয় মাস বয়সী নুরুন্নবী নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়। শিশুটি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার আয়নাল হকের ছেলে। গতকাল বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে সে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। অন্যদিকে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরগোবদিয়া গ্রামের আবদুর রহিমের সাত মাস বয়সী ছেলে লিয়নকে ২৭ মার্চ দুপুরে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। শিশুটি গতকাল বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে মারা যায়।
আবদুর রহিম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ঈদের আগে নিউমোনিয়ার সমস্যা নিয়ে পাঁচ দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। বাড়িতে ফিরিয়ে আনার পর হাম বের হলে আবার হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরে গতকাল বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর একমাত্র ছেলের মৃত্যু হয়।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলতি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি সামলাতে ২৪ মার্চ হামের রোগীদের চিকিৎসার জন্য তিনটি পৃথক মেডিক্যাল দল গঠন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাদের চিকিৎসায় হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের তিনটি পৃথক কক্ষ করা হয়। ‘হাম/মিসেলস কর্নার’ নামে ১০ শয্যাবিশিষ্ট কক্ষগুলোতে একটি মেডিকেল দলের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে কক্ষগুলোতেও রোগী সংকুলান হচ্ছে না। ১৮ মার্চ থেকে হাম রোগীদের তথ্য হাসপাতালে পৃথকভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাম ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় রোগীর হাঁচি-কাশি, কথা বলা বা সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। হামের জটিলতা থেকে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখে, মাথায় প্রদাহসহ বিভিন্ন রোগে শিশুরা আক্রান্ত হয় ও মৃত্যুঝুঁকি তৈরি হয়। হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের মধ্যেও নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ অন্যান্য লক্ষণ আছে।
হাসপাতালের হাম মেডিকেল দলের ফোকাল পারসন সহযোগী অধ্যাপক মোহা. গোলাম মাওলা প্রথম আলোকে বলেন, হাম আক্রান্ত হয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাম আক্রান্ত শিশুরা হামের পাশাপাশি জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়। রোগী বাড়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে শিশু বিভাগের তিনটি কক্ষ নিয়ে করা হাম কর্নার সরিয়ে আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড চালুর প্রস্তুতি চলছে।