কিশোর মো. নাঈম
কিশোর মো. নাঈম

ঘরে ঘুমিয়ে ছিল কিশোর, সকালে লাশ মিলল ধানখেতে

প্রতিদিনের মতো রাতে ঘুমাতে যায় ১৪ বছর বয়সী কিশোর মো. নাঈম। ভোরে ফজরের নামাজের সময় তার স্বজনেরা উঠে দেখেন সে বিছানায় নেই, ঘরের দরজা খোলা। এরপর শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। একপর্যায়ে ঘর থেকে ১০০ গজ দূরে ধানখেতের পাশের রাস্তা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বলে মনে করছে পুলিশ।

আজ মঙ্গলবার সকালে সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য বাগ্যা গ্রামের এবায়েদ উল্যার বাড়িসংলগ্ন ধানখেতের পাশে রাস্তা থেকে নাঈমের লাশ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, নিহত নাঈম লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার ইব্রাহীম খলিলের ছেলে। গত তিন বছর আগে তার মা–বাবার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এর পর থেকে সে সুবর্ণচরে নানার বাড়িতে থেকে একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। সম্প্রতি তার মায়ের আবার বিয়ে হয়।

নাঈমের নানা এবায়েদ উল্যার দাবি, মেয়েকে নতুন করে বিয়ে দেওয়ায় নাঈমের বাবা প্রতিশোধ নিতে নিজের ছেলেকে হত্যা করেছেন। তবে এ বিষয়ে নাঈমের বাবা ইব্রাহীম খলিলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নাঈমের নানা এবায়েদ উল্যাহ বলেন, ‘সোমবার রাতের খাবার খেয়ে নাঈম ঘুমিয়ে পড়ে। সকালে ফজরের নামাজের সময় নামাজ পড়তে উঠলে দেখি ঘরের দরজা খোলা, সে বিছানায় নেই। এরপর বাড়ি থেকে ১০০ গজ দূরে ধানখেতের পাশে রাস্তার ওপর তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখি।’

এবায়েদ উল্যাহ অভিযোগ করে বলেন, ‘২০-২৫ দিন আগে আমার মেয়ের নতুন করে বিয়ে হয়। এরপর নাঈমের বাবা ইব্রাহীম খলিল আমার মেয়ে সুমি আক্তারকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন। আমার মেয়ে সুমিও এ ঘটনার জন্য তার সাবেক স্বামীকে সন্দেহ করছে।’ অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার নিহত কিশোরের বাবা ইব্রাহীম খলিলের মুঠোফোনে কল করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

সুবর্ণচরের চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি রফিকুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড মনে হয়েছে। নিহত নাঈমের থুতনির নিচে জখমের দাগ রয়েছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানা যাবে। নিহত কিশোরের বাবার সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি চট্টগ্রাম অথবা ফেনীতে আছেন। তিনি আসছেন বলে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’