টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় বৃদ্ধ দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের ঘরের ভেতরে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের ঘোষাখালী গ্রামের বসতঘর থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই দম্পতি হলেন মোতাহার সিকদার ওরফে ঠান্ডু (৮০) ও রেজিয়া বেগম (৭২)।
পরিবারের সদস্যদের ধারণা, ধানের চারা রোপণ করতে আনা অজ্ঞাতপরিচয় দুই শ্রমিক তাঁদের হত্যার পর স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে গেছেন।
নিহত ব্যক্তির নাতি শাকিল সিকদার বলেন, গত রোববার তাঁদের জমিতে ধানের চারা রোপণ করার জন্য শরিফ ও সুমন নামে দুজন শ্রমিককে আনা হয়। তাঁর দাদা মোতাহার সিকদারের পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা ছিল। শ্রমিকেরা পায়ের ব্যথা ভালো করার জন্য তাঁদের কবিরাজি ওষুধ খেতে দেন। রাতে শ্রমিক দুজনকে ঘুমানোর জন্য তাঁর দাদার ঘরের বারান্দায় জায়গা দেওয়া হয়। দাদা ও দাদি ঘরের ভেতরে ঘুমান।
শাকিল সিকদার আরও বলেন, সকালে তাঁর দাদা ও দাদি ঘুম থেকে না ওঠায় বাড়ির লোকজন ডাকাডাকি করেন। কিন্তু কোনো সাড়াশব্দ পাননি। পরে দেখতে পান ঘরের পেছনের দরজা খোলা। সামনের দরজার পাশে টিন কাটা। অচেতন অবস্থায় দুজনকে স্বজনেরা মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে সকালে উঠে ওই দুই শ্রমিককেও বাড়িতে পাওয়া যায়নি বলে মোতাহার সিকদারের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। হাবলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বলেন, ‘দুজন অজ্ঞাতপরিচয় শ্রমিকের বিরুদ্ধে বৃদ্ধ দম্পতিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের শাস্তির দাবি করছি।’
বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে, ধানের চারা রোপণ করার জন্য আনা দুই শ্রমিক টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করার জন্য এই দম্পতিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। মরদেহের সুরতহাল করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’