
বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য শাহ্ শহীদ সারোয়ার কারাগার থেকে ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। ৪২ দিন পর রোববার বিকেলে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। মুক্তির পর তাঁকে ফুলের মালা পরিয়ে বরণ করে নেন সমর্থকেরা। পরে নিজের নির্বাচনী এলাকায় যান তিনি। তারাকান্দা-ফুলপুর সড়কের বিভিন্ন স্থানে তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন।
তারাকান্দা এলাকায় দেওয়া বক্তব্যে শাহ্ শহীদ সারোয়ার বলেন, ‘গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলাম। ষড়যন্ত্রকারীরা ভেবেছিল আমাকে জেলে বন্দী রেখে তারা নির্বাচন করে পার পেয়ে যাবে। ইনশা আল্লাহ তারাকান্দার মাটিতে কোনো চান্দাবাজ, ধান্দাবাজের জায়গা হবে না। আমি জেলে দেখে এসেছি অনেক নিরীহ-নিষ্পাপ লোককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁদেরকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া হোক। একজন লোককেও আর বিনা কারণে গ্রেপ্তার করা চলবে না। তাহলে আমি মানব না, তাহলে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না। আমি দীর্ঘদিন জেলে ছিলাম। আপনারা যেভাবে সাহস জুগিয়েছেন, আমার মুক্তির আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। ফুলপুর-তারাকান্দার মাটিতে ন্যায়শাসন আমরা প্রতিষ্ঠা করব।’
প্রশাসনকে সতর্ক করে দিয়ে সারোয়ার বলেন, ‘প্রশাসনের উদ্দেশে বলতে চাই, কোনো রকম ধানাইপানাই চলবে না। সুষ্ঠু, সুন্দর নির্বাচন করতে হবে। আর একটা নিরপরাধ লোককে যদি গ্রেপ্তার করা হয়, তাহলে এই মাটিতেই উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।’ এ সময় নিজের ঘোড়া প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ন্যায়ের কথা বলব, উন্নয়নের কথা বলব, বিচারের কথা বলব। যাঁরা জেলখানায় আছেন, তাঁদের বের করে নিয়ে আসব। একটা লোককেও যেন গ্রেপ্তার না করা হয়।’
শাহ্ শহীদ সারোয়ারের ভাতিজা মোস্তাফিজ ফকির জানান, গত বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালত থেকে তাঁর চাচা জামিন পান। পরে আজ রোববার বিকেলে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ফুলপুরে এক রিকশাচালক আহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় শাহ্ শহীদ সারোয়ারকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় গত ২১ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের একটি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন সারোয়ার। আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
শাহ্ শহীদ সারোয়ার ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ ও ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। পরে ২০২৪ সালে বিতর্কিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে সাতজন প্রার্থী অংশ নিয়েছেন। বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার। এ ছাড়া জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য থেকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদুল্লাহ, ইসলামী আন্দোলন থেকে গোলাম মাওলা ভূঁইয়া, জাতীয় পার্টি থেকে এমদাদুল হক খান, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি থেকে মো. জুলহাস উদ্দিন শেখ প্রার্থী হয়েছেন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন মোহাম্মদ আবু বক্কর ছিদ্দিক।