
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার টেপিরবাড়ি এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় হঠাৎ অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে টেপিরবাড়ি এলাকার কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।
কারখানা কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় অসুস্থ শ্রমিকদের মাওনা চৌরাস্তার আল হেরা হাসপাতালসহ আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁরা কী কারণে অসুস্থ হয়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষ বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের একটি সূত্র জানায়, সাতজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। এ ছাড়া ৩০ জন সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেছেন। আরও কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
এর আগে গত ২৪ জুন একই কারখানায় রাতের পালায় কর্মরত অবস্থায় লিজা আক্তার (৩৬) নামের এক নারী শ্রমিক মারা যান। এ ঘটনার পরদিন সকালে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন কারখানার শ্রমিকেরা।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের সূত্রে জানা যায়, আজ কারখানার ভেতরে নিয়মিত কাজ চলছিল। সকাল ১০টার কিছুক্ষণ আগে হঠাৎ কারখানার পঞ্চম তলার সুইং বিভাগে কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ বোধ করেন। তাঁদের মাথা ঘোরা, পেটে তীব্র ব্যথা, বমি বমি ভাব ও শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেয়। অল্প সময়ের মধ্যেই একই কারখানার অন্যান্য বিভাগেও একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে আরও শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ তাঁদের হাসপাতালে পাঠায়। একের পর এক শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার খবরে পুরো কারখানায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ওই কারখানার সুইং অপারেটর মো. হাবিব বলেন, কাজ করা অবস্থায় হঠাৎ তাঁর কয়েকজন সহকর্মী অসুস্থ হয়ে মেঝেতে বসে পড়েন। এরপর অন্যান্য অনেকেই একইভাবে অসুস্থ হতে থাকেন। তাঁরা বিষয়টি দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে কারখানার পক্ষ থেকে তাঁদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আরেক শ্রমিক আশিক নুর বলেন, ‘এক মাস আগেও একই কারখানায় একজন শ্রমিক মারা গেছেন। তারপরও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমরা নিরাপদ কর্মপরিবেশ চাই।’
অসুস্থ শ্রমিক শাহিনুর বলেন, ‘কাজ করার সময় হঠাৎ মাথা ঘুরতে শুরু করে। এরপর পেটে ব্যথা ও বমি বমি ভাব দেখা দেয়। পরে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।’
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুর আলম প্রথম আলোকে বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। সেখানে প্রথমে কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর আরও অনেকে অসুস্থ হন। এ ঘটনায় কারখানা কর্তৃপক্ষ আজ ছুটি ঘোষণা করেছে।