
জয়পুরহাট–১ (জয়পুরহাট সদর এবং পাঁচবিবি উপজেলা) আসনে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দুই পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার বিকেল পাঁচটার দিকে জয়পুরহাট সরকারি কলেজের পেছনে শান্তিনগর মহল্লায় এ ঘটনা ঘটেছে।
আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী জয়পুরহাট জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রধান। স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়পুরহাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাবেকুন নাহার (শিখা)। আসনটিতে তাঁদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহার তিনটি গাড়ি নিয়ে শান্তিনগর এলাকায় আসেন। একটি গাড়িতে সাবেকুন নাহার, অন্য দুই গাড়িতে তাঁর স্বজন ও কর্মীরা ছিলেন। এ সময় বিএনপির কর্মীরা অভিযোগ তোলেন, সাবেকুন নাহার ভোট কিনতে এসেছেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে গড়ায়। এতে ৯ জন আহত হন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সাবেকুন নাহার সন্ধ্যা সাতটার দিকে তাঁর আহত স্বজন ও কর্মীদের দেখতে হাসপাতালে আসেন। এ সময় হাসপাতাল চত্বরে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। তখন তাঁর কর্মীরা সেখানে উপস্থিত থাকা সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এ নিয়ে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেখান থেকে সাবেকুন নাহার হাসপাতালের ভেতরে অবস্থান নেন। তিনি প্রায় আধা ঘণ্টার বেশি সময় হাসপাতালে আটকা ছিলেন। পরে সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের বিপুলসংখ্যক সদস্য হাসপাতালে এসে সাবেকুন নাহারকে বের করে জয়পুরহাট সদর থানায় নিয়ে যান।
জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের সঙ্গে বিএনপি কর্মীর মধ্যে সংঘর্ষে হওয়ার ঘটনায় ৯ জন আহত হয়েছেন। তাঁরা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ঘটনায় স্বতন্ত্র প্রার্থী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সাবেকুন নাহার হাসপাতালে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। তিনি বিষয়টি আমাদের জানালে তাঁকে সেখান থেকে থানায় নেওয়া হয়েছে।’
জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক সরদার রাশেদ মোবারক জানান, নির্বাচনী সংঘর্ষের ঘটনায় ৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ছয়জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর ও তিনজন বিএনপি প্রার্থীর লোক।
এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন জানিয়ে সাবেকুন নাহার বলেন, ‘আমি শান্তিনগরে নির্বাচনী ক্যাম্প পরিদর্শন করতে গিয়েছিলাম। সেখানে আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। আমার দেবর ও কর্মীদের মারপিট করে রক্তাক্ত জখম করা হয়। যাঁরা এসব ঘটনা ঘটিয়েছেন, তাঁরা বিএনপি-ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সঙ্গে যুক্ত। তাঁরা বিএনপির দলীয় প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধানের লোকজন।’
সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে কল করা হলে বিএনপির প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধান ধরেননি। তবে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন মুঠোফোনে বলেন, ‘আমার শরীর একটু খারাপ, বাসায় ঘুমিয়ে ছিলাম। এ বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই।’