
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কক্সবাজারের চারটি সংসদীয় আসনে প্রচারণা শুরু করেছেন বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থী। জনসংযোগ, লিফলেট বিলি, দলীয় প্রতীক নিয়ে শোভাযাত্রা, গান বাজিয়ে ও স্লোগান দিয়ে নিজ এলাকায় সমর্থকদের নিয়ে প্রচারণা চালান প্রার্থীরা। নির্বাচনে প্রচারণার প্রথম দিনটি ছিল উৎসবমুখর।
কক্সবাজার-৩ (সদর, রামু ও ঈদগাঁও)
আজ সকালে সদরের সমিতিপাড়া, কুতুবদিয়াপাড়ায় গণসংযোগ করেন বিএনপির প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্যজীবীবিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান কাজল। ভোটারদের উদ্দেশে লুৎফুর রহমান বলেন, ৩০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে তিনি মানুষের জন্য যা করেছেন, তার প্রতিদান পাচ্ছেন। হাজার হাজার মানুষের সমর্থন–ভালোবাসায় তিনি মুগ্ধ।
লুৎফুর রহমান পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নুনিয়াছাটা, উত্তর নুনিয়াছটা, ফিশারিঘাট, ২ নম্বর ওয়ার্ডের এন্ডারসন রোড, বদরমোকাম নুরপাড়া, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পেশকারপাড়া, টেকপাড়া এবং কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে জনসংযোগ করেন। শহরের বড় বাজার এলাকায় একটি নির্বাচনী কার্যালয়ও উদ্বোধন করেন।
এ আসনের জামায়াতের প্রার্থী শহিদুল আলম বাহাদুর সকালে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংঝা ইউনিয়নের হাজীপাড়ায় বাবার কবর জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। এরপর সদর উপজেলার খুরুলিয়া বাজারে সংক্ষিপ্ত পথসভায় শহিদুল আলম বাহাদুর বলেন, পুরো আসনে দাঁড়িপাল্লার গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ সুশাসন ও ন্যায়বিচার চান।
এ আসনে লেবার পার্টির প্রার্থী জগদীশ বড়ুয়া রামুতে ট্রাকে উঠে প্রচারণা চালান। ট্রাকের সম্মুখভাবে টাঙিয়ে রাখা হয় নিজের প্রতীক আনারস। হাতমাইকে জগদীশ বড়ুয়া বলেন, বিএনপি-জামায়াতের চেয়েও তাঁর দলের সমর্থক বেশি দেখা যাচ্ছে, আনারসে ভোট পড়বে বেশি।
কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ)
সকালে টেকনাফের হোয়াইক্যং এলাকায় বাবার কবর জিয়ারত করে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন জামায়াতের প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির নুর আহম্মদ আনোয়ারী। এরপর হোয়াইক্যং ইউনিয়ন ও উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নে গণসংযোগ ও কয়েকটি পথসভায় বক্তব্য দেন তিনি। নুর আহম্মদ আনোয়ারী প্রথম আলোকে বলেন, সীমান্ত জনপদের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পরিবারতন্ত্রের হাতে জিম্মি। মানুষ পরিবর্তন চান। দাঁড়িপাল্লার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
বিএনপি প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী সকালে উখিয়ার সোনারপাড়ায় পথসভার মাধ্যমে ধানের শীষের প্রচারণা শুরু করেন। পথসভাটি বিশাল সমাবেশে পরিণত হয়। শাহজাহান চৌধুরী বলেন, উখিয়া-টেকনাফ হচ্ছে বিএনপির ঘাঁটি, ধানের শীষ ছাড়া মানুষ অন্য কিছু চিন্তা করেন না।
এ আসনের অপর দুই প্রার্থী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নুরুল হক (হাতপাখা) ও জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) সাইফুদ্দিন খালেদ (সিংহ) গণসংযোগ চালান।
কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া)
এ আসনের জামায়াতের প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি সকালে মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে প্রচারণা শুরু করেন। ভোটারদের উদ্দেশে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্রবন্দর হচ্ছে, আরও উন্নয়ন হবে। কিন্তু স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমানও নিশ্চিত করতে হবে। চাকরির ক্ষেত্রে বৈষম্য নয়, স্থানীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।
সকালে মহেশখালীর বড় মহেশখালী ইউনিয়নে প্রচারণা শুরু করেন বিএনপি প্রার্থী আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ। এরপর মহেশখালীর কয়েকটি ইউনিয়নে গণসংযোগ ও পথসভায় ভোটারদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন তিনি। তিনি বলেন, মহেশখালী-কুতুবদিয়ার মানুষ নানা ক্ষেত্রে বৈষম্য ও অবহেলার শিকার। দুই দ্বীপ উপজেলাতে ধানের শীষের জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এ আসনে ধানের শীষের জয় অবশ্যই হবে।
এ আসনে অপর তিন প্রার্থী ইসলামী আন্দোলনের জিয়াউল হক (হাতপাখা) গণ অধিকার পরিষদের (জিওপি) এস এম রোকনুজ্জামান খান (ট্রাক) এবং জাতীয় পার্টির মো. মাহমুদুল করিম (লাঙ্গল) কয়েকটি গ্রামে গণসংযোগ চালান।
কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া)
সকালে পেকুয়া কুলসুম নাহার স্কুলের পথসভায় দোয়া চেয়ে প্রচারণা শুরু করেন বিএনপি প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। এরপর তিনি চকরিয়ার কোনাখালী, লতাবনিয়া, মৌলভীপাড়া, সিকদারপাড়াসহ কয়েকটি ইউনিয়নে গণসংযোগ চালান। সালাহউদ্দিন আহমদ এ আসন থেকে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর স্ত্রী হাছিনা আহমদও একবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
সকালে বাবার কবর জিয়ারত করে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন জামায়াত প্রার্থী ও কক্সবাজার শহর জামায়াতের আমির আবদুল্লাহ আল ফারুক। এরপর চকরিয়ার কয়েকটি ইউনিয়নে গণসংযোগ ও পথসভাতে তিনি দাঁড়িপাল্লায় ভোট চান। আবদুল্লাহ আল ফারুক বলেন, এ আসনে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। জয়ও হবে ইনশা আল্লাহ।
এ আসনে অপর প্রার্থী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ছরওয়ার আলম কুতুবী (হাতপাখা) গণসংযোগ চালিয়েছেন।